বাস্তবায়ন হচ্ছে আইজিপির ৫ দফা নির্দেশনা, ঐকান্তিক মিলনের শপথে ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিতঃ 10:51 am | February 26, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

‘জনগণের পুলিশ হতে হলে সব ধরনের দুর্নীতি মুক্ত হতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। পুলিশে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই। মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত।’

আরও পড়ুন: ডিএমপির ৪৭ বছরের গৌরবময় পথচলা

কঠিনকে মুঠিবদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জনে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে সমৃদ্ধ-উন্নত ও গর্বিত পুলিশে রূপ দিতে বারবার এমন উচ্চারণ করে চলেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)।

পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই সব প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে অসম সাহসে মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়তে ৫ দফা কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন আইজিপি।

দুর্নীতি-মাদক নির্মূলের পাশাপাশি অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা এবং পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে পুলিশের সব কর্মকর্তা ও সদস্যদের হৃদমাঝারে তিনি প্রাণবন্ত-উজ্জ্বল-সুন্দর-মানবিকবোধের সম্মিলন ঘটিয়েছিলেন। প্রগাঢ় উপলব্ধিতে এই সত্য নিজেদের ভেতরে ধারণ করেছেন প্রায় সোয়া দু’লক্ষ সদস্যের বিশাল পুলিশ বাহিনী।

শিকড়সন্ধানী অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ পুলিশের বৃহৎ ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও (ডিএমপি)। নিজেদের চেতনার মর্মমূলে তাঁরা গ্রোথিত করেছেন আইজিপির কড়া নির্দেশনা।

২০২০ সালের শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে ডিএমপির বিশেষ অপরাধ ও আইন শৃঙ্খলা সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদের উপস্থিতিতেই, তাঁর নির্দেশনা আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবায়নে চিরায়ত পুলিশিং’র আঁধার তাড়িয়ে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘টিম ডিএমপি’কে যেন ঐকান্তিক মিলনের শপথেই এক সুতোয় গেঁথেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার)।

সেদিনের সেই সভায় প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও স্মার্ট পুলিশ গড়ার কারিগর ড.বেনজীর আহমেদ’র মুখ থেকেই নিজেদের পরিবর্তনের ‘গাইড লাইন’ পেয়েছিলেন ডিএমপির থানার অফিসার ইনচার্জ থেকে শুরু করে সব উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিজেদের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কাছ থেকেই প্রাপ্ত প্রতিটি নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার অঙ্গীকারও সেদিন করেছিলেন মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীলরা। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১৬ মাস। ক্রান্তিকাল কাটিয়ে ভেতর থেকে নিজেদের পরিবর্তনের অগ্রযাত্রার সূচনাই যেন ঘটে যায় সেদিনই।

পুলিশপ্রধান ড.বেনজীর আহমেদ’র নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য শুভ চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে অন্ধকার দূর করে নিবিষ্ট মনে সত্য ও মঙ্গলময় কাজের ব্রত নিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোহা.শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টদের কেবলমাত্র তিনি পরামর্শ বা সৎ উপদেশ দিয়েই বসে থাকেননি। নিবিড় মনিটর করেছেন মহানগরীর ৫০ টি থানার কর্মযজ্ঞ। প্রতিটি থানায় যে মামলা বা জিডি হচ্ছে, তার বাদীর সঙ্গেও কথা বলে সেখানে তাঁরা কী ধরনের সেবা পেয়েছেন, তা জানতে তাঁর অফিস থেকে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছেন।

ডিএমপির প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। যখনই তিনি মনে করেছেন থানার একটি বিষয়ে আলাদা নজর দেওয়া দরকার, তখনই তাদের ডেকে এনেছেন। সংশোধনের বার্তা দিয়েছেন।

পরিস্কার বলে দিয়েছেন- মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, কাজ না করে, শুধু তেলবাজি ও ওয়্যারলেসবাজি করে ডিএমপিতে চাকরি করা যাবে না। আন্তরিকভাবে মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও কেন পুলিশ কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছাতে পারছে না তার ময়না তদন্তও করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘কোন মাদক ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট থানা এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করলে সেই অফিসার ইনচার্জের শেষ রক্ষা হবে না। এই ব্যর্থতার জেরে তাকে থানার দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হবে।’ মহানগর পুলিশে চিরায়ত প্রথা ভেঙে দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে উচ্চকন্ঠ অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-১) মোহা: শফিকুল ইসলাম বিবর্ণহীনতার অদৃশ্য চাদর সরিয়ে জীবনের খেরোখাতার পাতা উল্টিয়ে সম্মুখসমরে আলোর পথের যোদ্ধা হিসেবেই নিজেদের উপস্থাপনের তাগিদও দিয়েছেন।

‘শান্তি শপথে বলীয়ান’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ডিএমপি জননিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে সুচারূভাবেই। ‘টিম ডিএমপি’ অপরাধ দমনের পাশাপাশি অপরাধভীতি দূর করেছে। কেউ অপরাধ করে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। অপরাধের মাত্রা যেমন কমেছে আর অপরাধ করার পর জড়িতদেরও গ্রেপ্তারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে- এ ধারণা তৈরি হয়েছে সাধারণের মন-মননে।

ডিএমপি কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম সব সময়ই বলেছেন, ‘মাননীয় আইজিপি মহোদয় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ঘোষণা করেছেন। এসব নীতি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি নিজেই পরিবর্তন হতে চাই এই বোধটি নিজের মধ্যে আনতে হবে।’

আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদের নির্দেশনা বাস্তবায়নকে নিতে হবে ইবাদতের অংশ হিসেবে, সবার মস্তিষ্কে এ বিষয়টিও স্থায়ীভাবে গেঁথে দিতেই ২০২০ সালের শনিবার (৪ জুলাই) ডিএমপি কমিশনার উচ্চারণ করেন, ‘আমি রাজা ও জনগণ প্রজা এমন মানসিকতা বহন করা যাবে না। এই পরিবর্তনের সাথে যারা থাকতে পারবেন না তারা দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। আমরা ভেতর থেকে পরিবর্তন হয়ে জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই।’

ডিএমপি কমিশনার হৃদয়তন্ত্রিতে গেঁথেছেন মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক উক্তি- ‘তোমরা জনতার পুলিশ হও। মানুষ যেন নির্ভয়ে তোমার কাছে যেতে পারে। তোমরা শাসকের পুলিশ না, পাকিস্তানি পুলিশ না, ব্রিটিশ পুলিশ না।’ ডিএমপিকে এমনভাবেই তৈরি করতে একাগ্রচিত্তেই কাজ করে চলেছেন মোহা.শফিকুল ইসলাম। তাঁর একটিই প্রত্যাশা- রাজধানীবাসী যেন নিজেদের দু:সময়ের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পুলিশকেই মনে করে।

করোনাকালে নিজেদের ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞে প্রজ্বলিত মানবিক পুলিশের মশাল হাতে নিয়ে আপন মহিমায় পথ চলে পুরো বিশ্বকে নিজেদের সক্ষমতার কথা জানান দিয়েছে আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ’র নেতৃত্বাধীন ‘জনতার পুলিশ’। করোনাকালে পুলিশের বদলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে আত্নিক শক্তি সঞ্চারও হয়েছে। নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিতে সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধিতে ঋদ্ধ করেছেন পুলিশকে। পুলিশপ্রধান ড.বেনজীর সময়ে সময়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন-‘অতিমারি করোনার সময়ে পুলিশ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।

জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। করোনায় পুলিশ জনগণের পাশে গিয়ে যেভাবে সেবা দিয়েছে, এর বেশিরভাগই পুলিশের কাজ ছিল না। এজন্য পুলিশকে বলাও হয়নি, নির্দেশও দেওয়া হয়নি। কিন্তু পুলিশ এই কাজটি করেছে একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুলিশ এত সম্মান, এত মর্যাদা আর কখনো পায়নি। এখন জনগণ পুলিশের পক্ষে কথা বলছে, পুলিশের জন্য লিখছে।’

কালের আলো/এএ/বিএসবি