বরণে নতুনত্ব বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের, মোহিত প্রধানমন্ত্রীও

প্রকাশিতঃ 9:38 pm | March 21, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো

নয়নাভিরাম এক সৌন্দর্য। দেখলে যে কারও মন ভরে যায়। সম্ভবত মন ভরেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও। সোমবার (২১ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টার দিকে পটুয়াখালীর পায়রায় দেশের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে এসে পৌঁছানোর পর কোল জেটি এলাকার রাবনাবাদ নদীর মোহনায় ২২০টি নৌকার সমন্বয়ে এক মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে। নেতৃত্বে ছিলেন জেলেরা।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধুর আলোকিত বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ করলেন শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকারান্তরে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি তৃণমূলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির নিবিড় জেলেদের জীবনপ্রবাহও যেন মোটা দাগে উপস্থাপিত হয়েছে। ১০০টি পালতোলা নৌকার পাশাপাশি আরও ১০০ নৌকায় শোভাবর্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন। প্রতিটি নৌকায় রঙবেরঙের পোশাকে দুজন করে ৪০০ জেলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বাকি ২০ নৌকায় ছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং রঙবেরঙের কাপড় ও কাগজ দিয়ে সাজানো হয় এসব নৌকা। সঙ্গে বাজানো হয় ‘ও মাঝি নাও ছাড়িয়া দে, পাল উড়াইয়া দে’ গানের যন্ত্রসংগীত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাঁড়িয়ে হাতনেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন হাসিমুখেই। আবার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনেও ধারণ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

আরও পড়ুনঃ ‘গর্বিত’ নসরুল হামিদ বিপু, উচ্ছ্বাস স্বপ্নের পূর্ণতায়

স্থানীয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এসব নৌকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নজীবপুর গ্রামের আন্ধারমানিক নদীর তীরে নৌকাগুলো তৈরি করেছেন বরিশাল চারুকলা বিদ্যালয়ের ১০ জন শিল্পী। চার দিনে ২৫ সহকারীর প্রচেষ্টায় নৌকাগুলোয় সাজসজ্জার কাজ শেষ করেন ১০ শিল্পী। লাল-সবুজ, নীল এবং হলুদ রঙে নৌকাগুলো সজ্জিত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশের পথচলাকে আরও বেগবান করবে বিদ্যুৎ খাত

প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামফলক উন্মোচন করেন এবং শান্তির প্রতীক ১ হাজার ৩২০টি পায়রা অবমুক্ত করেন। প্ল্যান্টের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে ‘মেমেন্টো’ উপহার দেওয়া হয়।

তাকে উৎসর্গ করে ‘ও জোনাকি, কী সুখে ওই ডানা দুটি মেলেছ’ শিরোনামে একটি গানও এ সময় পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতি এবং পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি অডিও-ভিডিও উপস্থাপনাও প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার পুরো কর্মযজ্ঞে সৃষ্টিশীলতার নতুন এক উদাহরণ তৈরি করলো নসরুল হামিদ বিপুর নেতৃত্বাধীন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

কথায় বলে ‘আকাশে চাঁদ উঠলে নাকি সবাই দেখে।’ চাঁদের স্নিগ্ধ আলো সবাই উপভোগ করে। মুগ্ধ হয়। একই ভাবে গাছে ফুল ফোটার পর তার সৌরভ নাকে গিয়ে লাগে। সুগন্ধে মন ভরে যায়। আসল ভাব হলো কোন কিছু দৃশ্যমান হলেই কেবল তার গুনাগুণ বিচার করা যায়। চাঁদ না দেখে যেমন চাঁদের সৌন্দর্য পরিমাপ করা যায় না, কিংবা ফুলের ঘ্রাণ না নিয়ে যেমন সুঘ্রাণের মাত্রা পরিমাপ করা যায় না। ঠিক তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পটুয়াখালীর অনুষ্ঠানে বরণের প্রতিটি পর্বেই নতুনত্বের সমাহার ঘটিয়ে নান্দনিক এক দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সুন্দরতম এমন সব দৃশ্যকাব্য অভিভূত করেছে স্বয়ং সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকেও। বহুকাল অনুপম এক সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে থাকবে দেশের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতির এই অনুষ্ঠানটি।

কালের আলো/এসবি/এমএম