পুলিশ মানুষের ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ অর্জন করেছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিতঃ 2:39 pm | April 10, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
নিজেদের কাজের মাধ্যমে পুলিশ এখন মানুষের ‘আস্থা ও বিশ্বাস’ অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, জনগণের পাশে থাকবেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর পুলিশ বাহিনীর জন্য যত রকমের সুযোগ সুবিধা করা এবং বিশেষায়িত বাহিনী গড়ে তোলা, মানুষের সেবাটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়া, মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছে। কাজেই সেইভাবে সততার সাথে আপনারা কাজ করে যাবেন, সেটাই আমরা চাই।
আরও পড়ুন: পুলিশ ইতোমধ্যে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর যে ঐতিহাসিক বার্তাটা, এই পুলিশকে জনগণের পুলিশ হতে হবে… আমি মনে করি, এই হেল্প ডেস্ক নির্মাণের মাধ্যমে নারী, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধীদের সেবা দেওয়া এবং গৃহহীনদের গৃহ দেওয়া, এটা জনগণের পুলিশেরই কাজ। কাজেই আজকের পুলিশ জনগণের পুলিশ হিসেবেই আপনারা আজ মানুষের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করেছেন।’
রোববার (১০ এপ্রিল) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ৬৫৯টি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সেবায় স্থাপিত সার্ভিস ডেস্কের উদ্বোধন এবং গৃহহীনদের জন্য বানানো ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ‘পুলিশের সার্ভিস ডেস্ক স্থাপন ও গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত’
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের নারী সমাজ, শিশু, বয়স্ক যারা, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় হলে বলতে পারে না। বিশেষ করে নারীদের ব্যাপারে তো এটা আরও বেশি। তাদের জন্য অন্ততপক্ষে অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগটা কিন্তু আপনারা করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রথম যখন সরকারে আসি, তখন লিগ্যাল এইড গঠন করে দিই। যারা আর্থিক সমস্যায় আছেন, তাদের জন্য আমরা আলাদা ফান্ড দিয়েছি। কাজেই সেদিক থেকেও তাদের কোনো অসুবিধা হবে না। লিগ্যাল এইড থেকে তারা সব ধরনের সহযোগিতা বা বিচার চাইতে পারবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সফলতার গল্পগাঁথা নির্মাণ করছে বাংলাদেশ : আইজিপি
সার্ভিস ডেস্কে যারা সেবা দেবেন, প্রয়োজনে তাদের দেশের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হবে বলেও জানান টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এটা একটা মানবিক দিক বা মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। সেদিকে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয়েরও বিষয় আছে। কাজেই সেখানে প্রয়োজনে বিদেশে পাঠিয়েও যদি আমাদের কাউকে ট্রেনিং করিয়ে আনতে হয়, সেটা আমরা করাব এবং তারা এসে অন্যদের ট্রেনিং করাবে।
উন্নয়নকে রাজধানী বা শহরে আটকে না রেখে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে তার সরকার কাজ করছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি মানুষ ভূমিহীন থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, ঠিকানাবিহীন থাকবে না।
উন্নয়নের সুফলটা সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়নটা আরও গতিশীল হবে। প্রতিটা মানুষ যখন একটা থাকার জায়গা পায়, তখন তার একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেটাই তাকে সুযোগ করে দেয় নিজের পায়ে দাঁড়াবার, আত্মকর্মসংস্থান করবার।
‘তার ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস আস্থা সৃষ্টি হয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দরদও তৈরি হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে অনেক আয়োজন, অনেক অনুষ্ঠান আমরা করোনাভাইরাসের জন্য করতে পারিনি, কিন্তু এই যে গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর করে, তার একটা ঠিকানা দিয়ে দেয়া, আমার মনে হয় এর থেকে বড় কাজ আর কিছু হতে পারে না। সে কাজটা আপনারা করছেন। আপনাদেরকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
পুলিশের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। কাজেই এই স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে মানুষের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়াম রাজারবাগ প্রান্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আখতার হোসেন ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) বক্তব্য রাখেন। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইনস প্রান্ত থেকে যুক্ত হয়ে রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন, র়ংপুরের পীরগঞ্জ থানা থেকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, মাগুরা সদর থানা থেকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মুহিদ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সার্ভিস ডেস্কে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্য এবং সার্ভিস ডেস্ক থেকে সেবা পাওয়া সুবিধাভোগী এবং গৃহ পাওয়া উপকারভোগীরা বক্তব্য রাখেন। অতিরিক্ত আইজি ড. মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
কালের আলো/ডিএসবি/এমএম