জনভাষ্যেই মনোযোগী সিইসি

প্রকাশিতঃ 10:43 am | May 28, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

সংবিধান ও আইনের আলোকে একটি অর্থবহ, সুষ্ঠ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপহার দিতে চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। কঠিন এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু করেছেন। আগেই বলেছেন, চ্যালেঞ্জকে ভয় করেন না। কথার সঙ্গে মিল রেখেই নৈতিকতার শক্তি দিয়েই করতে চান মোকাবেলা। লক্ষ্যস্থির করেই ছক কষে এগোচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

তিনি আস্থা অর্জন করতে চান প্রতিটি রাজনৈতিক দলের। সন্দেহ-অবিশ্বাসের দেয়াল ভাঙতে কাজও করছেন একদিন-প্রতিদিন। প্রয়োজনীয় বা জরুরি কথাই বলছেন। হিসাব-নিকাশ করে সতর্কতার সঙ্গেই পথ চলছেন।

সৎ ও পেশাদার সাবেক এই অভিজ্ঞ আমলার আত্ন মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ ও কর্মযজ্ঞ আশাবাদী করে তুলেছে সাধারণ মানুষকে। তার দায়িত্বপ্রাপ্তির মধ্যে দিয়ে নির্বাচন কমিশন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি বিচক্ষণ, দায়িত্বশীল ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছিলেন। পুরোপুরি পক্ষপাতমুক্ত থেকেই চাকরি জীবনের দাঁড়ি টেনেছেন।

নিজের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার চিরায়ত চরিত্র বজায় রেখেই সিইসি হিসেবেও দিন-রাত একাকার করেই কাজ করে চলেছেন। গত প্রায় ৫ মাসে বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। ইভিএম নিয়ে প্রযুক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের মতো বড় কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করেছেন। সামনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। দিনের ভোট দিনে করার শক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও শুরু করে দিয়েছেন।

এসব ইতিবাচক কর্মের পাশাপাশি তিনি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন জনভাষ্যে। এই বিষয়টিতে সর্বোচ্চ জোর দিয়েই ইতোমধ্যেই তিনি গঠন করেছেন চার সদস্যের ‘মিডিয়া মনিটরিং কমিটি’। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতোই বৃহস্পতিবার (২৬ মে) এমন কার্যক্রমের সূচনা করেছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে শুরু করে প্রিন্ট মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, ফেসবুক ও ইউটিউব পর্যবেক্ষণ করবে এই কমিটি। কমিটি প্রতিদিন ইসিকে নিয়ে যে কোনো খবর, প্রচার-প্রচারণা মনিটরিং করে সরাসরি প্রতিবেদন দাখিল করবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের টেবিলে। পর্যবেক্ষণ যাবে অন্যান্য কমিশনার ও সচিবের হাতেও।

ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুক হক স্বাক্ষরিত কমিটি গঠনের অফিস আদেশে এমন তথ্যই মিলেছে।

ইসি সূত্র বলছে, ‘মিডিয়া মনিটরিং কমিটি’র দায়িত্ব বর্তেছে ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) ও যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামানের কাঁধে। তাকে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আছলাম, গ্রন্থাগারিক বেগম নাছিমা আক্তার ও সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আশাদুল হককে।

কমিটির কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা তার দায়িত্বাধীন নির্ধারিত মিডিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় কী খবর ছাপানো বা প্রকাশিত হয়েছে তা বেলা ১১টার মধ্যে কমিটির আহ্বায়কের কাছে রিপোর্ট করবে। আহ্বায়ক সেটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের কাছে উপস্থাপন করবেন। কমিটি প্রয়োজনে যে কোনো কর্মকর্তাকে কো-অপ্ট করতে পারবে।

কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়েছে, কেবল মিডিয়া মনিটরিং কমিটিই ইসির সংক্রান্ত খবর, প্রচার-প্রচারণা পর্যবেক্ষণ করবে, তা নয়। মাঠ পর্যায়ে সব কর্মকর্তাকেও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের যে স্থানে যে কোনো কিছু হলে তা কমিটিতে অবহিত করতে হবে।

মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে- প্রতিনিয়ত নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সংবাদ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি) প্রচারিত নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য/ভিডিও কোনো কর্মকর্তার নজরে এলে তা মিডিয়া মনিটরিং কমিটিকে অবহিত করবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হাল সময়ে মত প্রকাশের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সেখানে অনেকেই দ্বাদশ সংসদের ভোটকে সার্বজনীন অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আসছে। কোন মাধ্যম নয় সরাসরি মনিটরিং টিম সিইসি-ইসিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেবে।

একই বিষয়ে গণমাধ্যমে গণমানুষের ভাষ্য উঠে আসে। ইসির পদক্ষেপ এবং প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ ঠাঁই পায় সেখানে। ফলত জনভাষ্যে সিইসির গভীর মনোযোগ অবশ্যই তার আরও একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্তেরই বহি:প্রকাশ বলেই মানছেন পর্যবেক্ষকরা।

কালের আলো/ডিএস/এমএম