এডিজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ, র‍্যাবে ‘দ্বিতীয় অধ্যায়’ শুরু কর্নেল কামরুল হাসানের

প্রকাশিতঃ 10:06 am | June 14, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ঠিক ৪ বছর ২৫ দিন আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে র‍্যাব-১১’র অধিনায়ক হিসেবে প্রথম অধ্যায়টির ‘ইতি’ টেনেছিলেন লে. কর্ণেল মো. কামরুল হাসান। প্রমাণ রেখেছিলেন নিজেদের স্বার্থে নয় সংস্থা এবং দেশের জন্যই কাজ করেছেন। সব সময়ই বিশ্বাস করতেন এই একটি মন্ত্রেই সফলতা অনিবার্য; সেটি পেয়েছিলেনও হাতেনাতে।

চিরকপট না থেকে গণমাধ্যম কর্মীরাও তাঁর পেশাদারিত্ব, নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার উষ্ণ ও প্রত্যাশিত প্রশংসাই করেছিলেন সেদিন। এরপর তিনি ফিরে গেছেন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে।

কর্নেল কামরুল হাসান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পরিসরে প্রশিক্ষক, কমান্ড ও স্টাফ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে সুনামও কুড়িয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে সততার যেমন স্বাক্ষর রেখেছেন তেমনি স্থাপন করেছেন পেশাদারিত্ব, পারদর্শিতা, উৎকর্ষতা ও বিচক্ষণতারও নজিরও। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন কর্নেল পদে।

দক্ষ এবং অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ হয়েই আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‍্যাব) নিজের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করলেন কর্নেল কামরুল হাসান। সোমবার (১৩ জুন) র‍্যাবের নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস্) হিসেবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ফলত র‍্যাবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক এই সংস্থাটিতে নতুন পথচলাই যেন শুরু করলেন কর্তব্য প্রতিপালনে অনন্য সেই সেনা কর্মকর্তা।

নিজের প্রথম অধ্যায়ে কামরুল হাসান র‍্যাব-১১’র অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জঙ্গি বিরোধী অভিযান, মাদক বিরোধী অভিযান এবং শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্র গ্রেফতারে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন। র‌্যাবে কর্মরত থাকাকালীন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আভিযানিক কর্মকান্ড, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন।

র‍্যাব সদর দপ্তর জানিয়েছে, র‌্যাবের নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস্) কর্নেল কামরুল হাসান বিদায়ী মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

কর্নেল কামরুল হাসান ৩৫তম বিএমএ লং কোর্সের সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ‘কর্নেল’ পদবীতে আর্মার্ড কোর সেন্টার এন্ড স্কুল এর প্রধান প্রশিক্ষক এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিওসি) উইং এ ডাইরেক্টিং স্টাফ (ফ্যাকাল্টি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া আগে তিনি একটি সাঁজোয়া ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের স্টাফ অফিসার (গ্রেড-২), সাঁজোয়া ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এর প্লাটুন কমান্ডার (প্রশিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চৌকস অফিসার হিসেবে ২০০৬ সালে মিলিটারি অবজারভার এবং ২০১৮ সালে ব্যানব্যাট-২, দক্ষিণ সুদানে চীফ অপারেশনস্ অফিসার হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত ছিলেন।

কর্নেল কামরুল ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে আর্মি স্টাফ কোর্স, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) হতে আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিওসি), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মাস্টার অব সায়েন্স ইন মিলিটারি স্ট্যাডিজ ও মাস্টার অব স্যোসাল সায়েন্স ইন সিকিউরিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইউনিভার্সিটি অফ কেলানিয়া, শ্রীলংকা থেকে এমডিএস (মাস্টার ইন ডিফেন্স স্ট্যাডিজ) অর্জন করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে