বঙ্গমাতার জন্মদিনে মধুমতীর তীরে আবারও মানবিকতার হিরণ্ময় আভায় প্রোজ্জ্বল পুনাক

প্রকাশিতঃ 9:30 pm | August 08, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, টুঙ্গিপাড়া ঘুরে এসে :

চোখে ছানি পড়েছে ষাটোর্ধ্ব আকবর কাজীর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে। টুঙ্গিপাড়ার গিমাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকায় তাদের বাস। বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জাকে কাছে পেয়ে অঝোর ধারায় কাঁদলেন স্বামী-স্ত্রী।

এই কান্না হৃদয়-মন ছুঁয়ে যায় পুনাক সভানেত্রীর। দু:খ ভারাক্রান্ত হয়ে মুষড়ে যাওয়া রাবেয়া খাতুকে বুকে জড়িয়ে অভয় দিলেন। চোখ মুছে দিয়ে জীশান মীর্জা বললেন, ‘আমরা পাশে আছি। আপনার স্বামীর সুচিকিৎসা হবে।’ মমতার বাহুডোর থেকেই হৃদয়ানুভূতি ও অভিব্যক্তির সার্থক প্রকাশ ঘটিয়েই রাবেয়া খাতুনের সরলমাখা উচ্চারণ ‘মা, তোমাদের জন্য অনেক অনেক দোয়া। আল্লাহ তোমাদের মঙ্গল করুন।’

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর জন্মের সৌভাগ্যলিপিতে জ্বলজ্বল পুণ্যভূমি টুঙ্গিপাড়ায় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে চিকিৎসা নিতে আসা নারী-পুরুষদের সঙ্গে মানবিকতার অনিন্দ্য সৌন্দর্যের মহিমায় এভাবেই কথা বলছিলেন তাদের একান্ত আপনজন, পুত্রবধূ পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা। তাঁর স্বামী ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) এখানকার সুমৃত্তিকার সন্তান।

সোমবার (০৮ আগস্ট) মহিয়সী বঙ্গমাতার জন্মদিনে স্থানীয় গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রিকশা-ভ্যানে করে দলে দলে আসতে থাকা সাধারণকে পরম মমতায় ভরসার পাশাপাশি চোখেও যেন স্বপ্নকাজল এঁকে দিলেন জীশান মীর্জার নেতৃত্বাধীন ‘টিম পুনাক’। পুনাকের মন-মানসে বীরজায়া মহিয়সী বঙ্গমাতার উপস্থিতিও যেন করে তুললেন স্পষ্ট, দীপ্তিমান ও অনিবার্য। উদার আকাশের মতো বিস্তৃত হৃদয়ে মনের গহীনে প্রোজ্জ্বল মানবিকতার হিরণ্ময় আভায় পুনাক সভানেত্রী হয়ে উঠলেন সাধারণের ভালোবাসার ঠিকানা।

মানবিকতার শক্তিতে অবিচল থেকে অনুভূতির পরতে পরতে পুনাক ছড়িয়ে দিলো সৎ ও অকৃত্রিম অনির্বচনীয় মুগ্ধতা। গতবারও বঙ্গমাতার জন্মদিনে একইভাবে মানবিক চৈতন্যের উদ্ভাসনে নিজেদের উপস্থাপন করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

বঙ্গমাতার এবারের ৯২ তম জন্মবার্ষিকীতে প্রায় ১ হাজার ৩’শ নারী-পুরুষ পুনাক আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে তাদের বিনামূল্যে ওষুধ এবং খাবারও দেওয়া হয়েছে। এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে মেডিসিন, অর্থোপেডিক, চোখ, নাক, কান ও গলা, গাইনি ইত্যাদি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমতিক্রমে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজনের কথা জানিয়ে পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেন, ‘ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের ১১ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এসেছেন, আমরা ওষুধও এনেছি। এখানে ১ হাজার ২০০ এর বেশী মানুষকে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্প থেকে যারা চিকিৎসা নেবেন, তাদের কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে তাও বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আমরা এ ধরনের কম্বো মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করলাম।’

‘পুনাক পুলিশ পরিবারের নারীদের একটি সংগঠন’ উল্লেখ করে জীশান মীর্জা বলেন, ‘নিজেদের বৃত্তের বাইরে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণেও কাজ করছে পুনাক। মানুষের সেবায় পুনাকের এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুলিশ এবং পুনাক এক সূত্রে গাঁথা। পুলিশ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরলস দায়িত্ব পালন করে থাকে। পুনাকও মানুষের সেবায় বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে’-যোগ করেন তিনি।

এ সময় পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, এসবি’র অতিরিক্ত ডিআইজি রখফার সুলতানা খানম, গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকাসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং পুনাক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

পুনাকের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর জীশান মীর্জা নিজেদের কর্মসম্ভারে মানবিকতাপরিপুষ্ট ও দীপ্যমান করেছেন। মহৎ মানবিক আবেদনের মহিমায় হয়ে উঠেছেন কালজয়ী। গতানুগতিকতার কাঠামো ভেঙেছেন। নিজের চিন্তা, কর্ম ও জ্ঞানের শক্তি কাজে লাগিয়ে ঢেলে সাজিয়েছেন পুনাককে। বদ্ধ দুয়ার ভেঙে মুখর করেছেন মানবতার জয়গানে। আকাশের ঔদার্য্য নিয়ে উন্মোচিত করেছেন মানবিকতার অসীমান্তিক দিগন্ত।

পরে পুনাক সভানেত্রী মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

কালের আলো/এমএএমএমকে