প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শীতায় টিম ওয়ার্কে সফল প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান

প্রকাশিতঃ 12:15 pm | October 26, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

ফণী, বুলবুল বা আম্পানের পর ‘সিত্রাং’। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা: মো. এনামুর রহমান এমপি চারটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করেছেন। প্রতিটি দুর্যোগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইডলাইনে কার্যকর আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সক্ষম হয়েছেন ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে দুর্যোগ সহনীয় জাতি গঠনে অন্তরতর গভীর সত্যের মতোই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শীতা দেদীপ্যমান করেছেন, মানবিকতার অমৃতধারারাকেই নতুন মাত্রায় প্রস্ফুটিত করেছেন।

‘সিত্রাং’ মোকাবেলার আগে পরে কিংবা ১২ দিন আগের আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের সংবাদ সম্মেলনে মোটা দাগে প্রোজ্জ্বলিত করেছেন, বারবার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও নিজেদের সতর্কাবস্থা। চলতি মাসের বুধবার (১২ অক্টোবর) শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ সৃষ্টির আগেই জানিয়েছিলেন নিজেদের গভীর পর্যবেক্ষণ ও নজরদারির কথা। কোমর বেঁধেই সিত্রাং মোকাবেলার পর বহুমাত্রিক এবং সুদূরপ্রসারী ভাবনা-চিন্তায় অনন্য চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা বাণীও তুলে আনলেন নিজের সবশেষ সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর)।

আগেভাগেই জানিয়ে দিলেন ডিসেম্বরে আসছে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়। প্রধানমন্ত্রীর উক্তি থেকে আহৃত হয়েই বললেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল (সোমবার) রাত ১টা ১০ মিনিটে আমাকে ফোন কল করে জানিয়েছেন যে, এটা (ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং) ভালোভাবে মোকাবিলা করেছো, এজন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে আরেকটা (ঘূর্ণিঝড়) আসবে, সেটির ব্যাপারে একইরকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।’

কর্ম, কৃতিত্ব, বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্বে সমুজ্জ্বল প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান। সরকারপ্রধানের এই উচ্চারণ প্রকৃত অর্থেই প্রতিমন্ত্রীর টিম ওয়ার্কে সফলতারই উচ্চারণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে পর্যবেক্ষক মহলে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কার চেয়ে কম হওয়ার স্বস্তির শ্বাস ছেড়েছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে পরপর তিন বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে শুকরিয়া আদায় করেছেন। তার ভাষ্যে, ‘যেভাবে সিত্রাং সৃষ্টি হয়েছিল, এর যে বিস্তৃতি ছিল, যে পূর্বাভাস ছিল, তাতে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা জেগে উঠেছিল, তবে তেমনটা হয়নি।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কটে খাবি খাওয়ার মধ্যে এই বছরই বাংলাদেশে বন্যা পৌনে লাখ কোটি টাকার ক্ষতি করে দিয়ে গেছে, এর মধ্যেই আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। ঝড় কাটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক হিসাব করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং ১ হাজার মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এই ঝড়ে। মোট ৪১৯টি ইউনিয়নে ঝড় ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে। উড়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার ঘর। কিছু স্থানে সড়ক ভেঙেছে, বাঁধও ভেঙেছে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বড় সফলতাই হচ্ছে শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে এনে তাদের জীবন রক্ষা করা। সোমবার (২৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা শেষে ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছিলেন এমনটিই। আম্পানে ২৪ লাখ ৭৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে এসেছিলেন। এবার সিত্রাংয়ে ৬ হাজার ৯২৫ আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে আসা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আগেরদিনই ডা: এনামুর রহমান বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ফোনে আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করার সবচেয়ে বড় সফলতা হলো শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে এনে তাদের জীবন রক্ষা করা। একটি লোকও যদি মৃত্যুবরণ না করে তাহলে সেখানে সেটাই হলো সবচেয়ে বড় সফলতা। একই সাথে তিনি বলেছেন গবাদি পশুগুলোকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য। এখন সব আশ্রয়কেন্দ্রে গবাদি পশুর আশ্রয়ের ব্যবস্থা আছে। লোকজন যারা আসছেন, তারা তাদের গবাদি পশুসহ আসছেন। আর একটি নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, আমরা যেন লোকজনকে উপদেশ দেই তাদের ঘরে যে খাদ্যগুলো আছে সেগুলো যাতে সঠিকভাবে মজুত করার ব্যবস্থা করেন।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি, মাছের ঘের ভাসানো, বাঁধ ভাঙার পাশাপাশি বেশ কিছু ক্ষতির চিহ্ন রেখে বিদায় নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। বিভিন্ন স্থান থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারের তৎপরতা ও মনিটরিংয়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করেছেন। দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এনামুর রহমানও বাংলা ও বাঙালির আলোকায়নের সারথী শেখ হাসিনার পরামর্শ, উপদেশে নির্ঘুম থেকে সার্বক্ষণিক কর্মতৎপরতা চালিয়েছেন। সঙ্কটে আলো ছড়িয়েছেন, স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল করেছেন নিজেকে। দিনশেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা পেয়েছেন। হৃদয়ার্ঘ্য নিবেদনে ব্রতী হওয়ার প্রয়াসে মনন থেকে পল্লবিত হয়েই অকৃত্রিম শ্রদ্ধা-ভালোবাসার উদ্দীপ্ত মহিমাময় প্রতিমন্ত্রীর উচ্চারণ-‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই আমাদের অনুপ্রেরণা। সব কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যার।’

কালের আলো/এমএএএমকে