নবীন সেনারা স্বপ্নছোঁয়ার আনন্দে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পথচলার উপদেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিতঃ 9:54 pm | December 04, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ। শীতের সকালেই যেন ফুটেছে সব ফুল। স্বপ্নছোঁয়ার অপার আনন্দ মেধাবী ক্যাডেটদের হৃদয়ে। সীমাহীন আবেগে অনাবিল মুহুর্তের মুখোমুখি সবাই। কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের অবগাহনে উদ্বেলিত হওয়ার অন্যরকম একদিন। অদম্য মেধাবীদের কৃতিত্বে ধন্যি ধন্যি চারপাশ। আত্নজের বিজয় কেতনের সুখ আবেশ যেন স্পর্শ করে অভিভাবকদেরও। নিজ সন্তানের কপালে আশীর্বাদের চুম্বন এঁকে দেন অনেকেই। কারও কারও চোখে ছিল অশ্রু নয়, আনন্দাশ্রু!

প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে মেধাবী ক্যাডেটদের চোখের তারায় তখন খেলা করছে দেশমাতৃকার সেবার অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে যেন আরও স্বার্থক ও মহিমান্বিত করলেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপদেশ দিলেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পথচলার। নিজের সুগভীর প্রজ্ঞা আর দূরদৃষ্টিতে সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দেশপ্রেমের মন্ত্র গেঁথে দিলেন মেধাবীদের মস্তিষ্কে।

২০৪১ এর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হিসেবে কাজ করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহ্বান জানালেন নবীন সেনাদের। সরকারপ্রধানের ভাষায়-‘আজকের যারা নবীন অফিসার তারই হবেন আমাদের ‘৪১ এর সৈনিক এবং তারাই এই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন।’ বঙ্গবন্ধুকন্যা স্মরণ করিয়ে দিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই অমর-অব্যয় নির্দেশনা।

শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে ক্যাডেটদের এগিয়ে যেতে বাঙালি জাতির ইতিহাসের প্রধানতম নায়ক, মহাবীর; জাতির পিতা ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে পাসিং আউটে ক্যাডেটদের উদ্দেশে যে বক্তব্য দেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজের কন্ঠে উচ্চারণ করে মুজিবকন্যা বলতে থাকেন- ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের জাতির পিতা হিসাবে আদেশ দিচ্ছি, তোমরা সৎ পথে থেকো। মাতৃভূমিকে ভালোবেসো। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবা, গুরুজনকে মেনো, শৃঙ্খলা রেখো। তা হলে জীবনে মানুষ হতে পারবা।’

নবীন ক্যাডেটরা জাতির পিতার আদেশ মনে রেখে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের ওপর দায়িত্ব পালন করবে জানিয়ে চারবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি আপনাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর কাঙ্ক্ষিত কমিশন প্রাপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আপনাদের ওপর ন্যস্ত হলো দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আপনারা যথাযথভাবে পালন করবেন বলে আমি মনে করি।’

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃপ্ত শপথে বিজয়ের মাসে দেশপ্রেমের বৈজয়ন্তী উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৮৩ তম দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের কমিশন লাভ করা ১২৩ জন অফিসার ক্যাডেট। আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য মতে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১০২ জন পুরুষ ও ১৫ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ৫ জন ফিলিস্তিনি এবং ১ জন শ্রীলঙ্কান অফিসার রয়েছেন যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

রবিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি (বিএমএ) প্রাঙ্গণ কার্যত যেন রূপ নেয় উৎসবের হাটে। এদিন সময় যখন সকাল ১০ টা তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী কপ্টারটি ভাটিয়ারি মিলিটারি একাডেমির আকাশে। এরপর সশরীরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (এআরটিডিওসি)-এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার এবং ২৪ তম পদাতিক ডিভিশন জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম ও বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এস এম কামরুল হাসান তাঁকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা বিএমএতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া অমূল্য ও দূরদর্শী ভাষণটি প্রচার করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে সুসজ্জিত অভিবাদন মঞ্চ থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং চিত্তাকর্ষক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন।

পল্লী জননীর রূপে মুগ্ধতা ছড়ানো সাম্যের কবি নজরুলের ‘এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী’ সুরের মুর্চ্ছনায় খোলা জিপে চড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুচকাওয়াজ পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। পরে প্রধানমন্ত্রী কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

পেশাদার ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী
৮৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২২’ এ যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার পেশাদার ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে প্রতিটি বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ও সময়োপযোগী যুদ্ধ অস্ত্র সংগ্রহ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদার ও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।’

২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুগোপযোগী সামরিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে তার সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করছি। ২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতির পিতা প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিকে যুগোপযোগী করে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি, ২০১৮’ প্রণয়ন করেছি। অ্যারোস্পেস ও এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি।

সেনাবাহিনীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় কার্যকর পদক্ষেপ
সরকারপ্রধান বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে আমরা সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং বরিশালে ৭ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। গত চার বছরে বিভিন্ন ফরমেশনের অধীনে তিনটি ব্রিগেড এবং ছোট-বড় ৫৮টি ইউনিট প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সম্প্রতি মাওয়া-জাজিরাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শেখ রাসেল সেনানিবাস। মিঠামইন, রাজবাড়ী ও ত্রিশালে নতুন সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আর্মি এভিয়েশনের ফরোয়ার্ড বেস এবং লালমনিরহাটে এভিয়েশন স্কুল নির্মাণের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সেনাবাহিনীতে নতুন কম্পোজিট ব্রিগেড ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড যুক্ত করেছি। প্রতিটি বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক এবং যুগোপযোগী অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

শান্তি চান, যুদ্ধকে ‘না’
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতির পিতার রেখে যাওয়া পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গে বলেন, আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। জাতির পিতাই বলে গেছেন সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা তা যথাযথভাবে মেনে চলেই আমাদের দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে আওয়ামী লীগের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৩ সালে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান, এয়ার ডিফেন্স রাডার ইত্যাদি বিমান বাহিনীতে যুক্ত করেন। তিনি ১৯৭৪ সালেই একটি প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন।

১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নবীন সামরিক অফিসারদের পেশাগতভাবে দক্ষ, নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে উল্লেখ করে তিনি সে সময় ১৯৯৮ সালে ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ’ এবং ‘মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’, ১৯৯৯ সালে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং’ এবং ‘আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার কথা জানান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগেই সর্বপ্রথম সেনাবাহিনীতে দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে মহিলা অফিসার নিয়োগ এবং মহিলা সৈনিক ভর্তির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর পরিবারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিশেষ যোগসূত্রের কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক আত্মিক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বঙ্গবন্ধু পরিবারের। সেই স্মৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ কামাল ‘বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধ প্রশিক্ষণ কোর্স’ কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করে প্রধান সেনাপতির এডিসি’র দায়িত্ব পালন করেন। আর শেখ জামাল ছিল সম্মুখযোদ্ধা। ১৯৭৫ সালে জামাল ব্রিটিশ রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমি, স্যান্ডহার্স্ট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছিল। রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। কিন্তু ঘাতকেরা সবার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও অত্যাধুনিক অ্যাকাডেমিতে পরিণত করার লক্ষ্যে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিশ্বের মানুষ একদিন এই মিলিটারি অ্যাকাডেমি দেখতে আসবে। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে বঙ্গবন্ধু যে মিলিটারি অ্যাকাডেমির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই বাস্তবায়িত রূপ আজকের এই অ্যাকাডেমি। এখানে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের সব ধরনের অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’সহ বিবিধ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।’

সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে আরও বলেন, আজ তোমাদের সুসজ্জিত, সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ জন্য তোমাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। নবীন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং আজকের প্যারেডকে সামগ্রিকভাবে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আমি অ্যাকাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সকল অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। দেশ মাতৃকার সেবায় তাদের সন্তানদের দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে উত্তীর্ণ ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। সার্বিক বিষয়ে চৌকস সাফল্যের জন্য ৮৩ তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার লাবিব জোহাইর নূর আনান প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সেনাবিষয়ে সর্বোচ্চ সাফল্যের জন্য এসএম জহিরুল ইসলাম নিলয় ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। পরে ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন এবং পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সম্মানিত সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন সংসদ সদস্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনৈতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে