বিমান বাহিনী প্রধানের সুসংবাদ, লালমনিরহাট থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচলের ঘোষণা
প্রকাশিতঃ 11:32 pm | February 26, 2025

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
লালমনিরহাটবাসীর জন্য সুসংবাদ দিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আগামীতে লালমনিরহাট বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচল করবে।’ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় অবস্থিত অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সুখবর দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (এএইউবি) শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে আরও এগিয়ে যাবে।’
জানা যায়, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (এএইউবি) এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে লালমনিরহাটে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী এবং বিমানবাহিনীর সহায়তায় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সফলভাবে তিনটি ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওইদিন ড্রোন উৎক্ষেপণ অবলোকন করেন।
সূত্র মতে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিক্স (এআইএএ) ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর ‘ডিজাইন বিল্ড এন্ড ফ্লাই (ডিবিএফ)’ এর উপর বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। সূচনালগ্ন থেকেই এই প্রতিযোগিতাটি বিশ্বব্যাপী অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এএইউবি) এর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী বিমানের ডিজাইন, নির্মাণ এবং উড্ডয়নের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে প্রথমবারের মতো আগামী ৬ এপ্রিল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সফলভাবে তিনটি ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে লালমনিরহাটের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমিত সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে এ ধরণের আধুনিক ড্রোন আবিস্কার করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাংলাদেশের অ্যারোস্পেস শিল্পের ভবিষ্যতকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিমান বাহিনী প্রধান।
পরে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেন। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদ, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২০২৪ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের। তিনি দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের আধুনিক জ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কেবলমাত্র জাতীয় পর্যায়ে নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অ্যাভিয়েশন শিল্পের জন্য দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। বিমানবাহিনী প্রধান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘৫ আগষ্টের অর্জন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আমরা পরিবর্তন আনতে পারি এবং আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারি। আমাদের প্রত্যয় হবে আমরা আকাশের সীমানা ভেদ করবো ও মহাকাশে আমাদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করবো।’
অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে এম মনিরুল বাহার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী-জনতার মননকে ধারণ করে এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণামুখী এবং উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দিবসটি উপলক্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাভিয়েশন এবং স্পেস সম্পর্কিত একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানসমূহে বিমান বাহিনীর পিএসও, এয়ার অধিনায়ক বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ইউজিসির সদস্য ও বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/আরআই/এমকে