জাতীয় প্রয়োজন লক্ষ্য রেখে বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে হবে: অধ্যাপক সায়েদুর
প্রকাশিতঃ 2:24 pm | February 27, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
জাতীয় প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। একইসঙ্গে পোস্ট গ্রেজুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এর মাধ্যমে রেসিডেন্টদের নোবেল জয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিএসএমএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে রেডিডেন্ট চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের শপথ অনুষ্ঠান ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নবাগত রেসিডেন্টদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, চিকিৎসা শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন ও চিকিৎসা সেবা দক্ষতা অর্জনের সাথে সাথে বাংলাদেশের যেকোনো হাসপাতাল ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সুযোগ সুবিধার মধ্যেই অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগের সামর্থ্য অর্জন করতে হবে। নবাগত রেসিডেন্টদের চিকিৎসা পেশার নীতি নৈতিকতা ধারণ করতে হবে এবং রোগীদের অসন্তুষ্টি দূর করার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান সময়ে যোগাযোগ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি, লিডারশিপ ও টিম ম্যানেজমেন্ট এর গুণাবলি অর্জন করা, এআই সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন এবং নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে নিজেকে যুক্ত করতে হবে। এটি এখন সময়েরই দাবি, যা রেসিডেন্টদেরকে শিখতে হবে, অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের সুস্বাস্থ্যের সাথে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, পৃথিবীর সকল দেশ, সকল প্রাণী, পরিবেশ, পানি, বাতাস, খাদ্যসহ সমগ্র পৃথিবী যুক্ত। তাই মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে নিরাপদ পানি, নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ বায়ু, পর্যাপ্ত অক্সিজেন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, তাই এই সব বিষয়েও পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, চিকিৎসা পেশায় এভিডেন্স বেইসড ট্রিটমেন্ট বা প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করে এভিডেন্স বেইসড চিকিৎসাবিদ্যা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক অংশগ্রহণ ও মূল্যায়নও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে। নিজেদেরকে থিসিস ও গবেষণায় যুক্ত করে নতুন নতুন উদ্ভাবনী জ্ঞানের আলোর দুয়ার খুলে দিতে হবে। আজকের রেসিডেন্টদের মাঝেই রয়েছে সুপ্ত জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অফুরন্ত ভাণ্ডার। এটাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণার মাধ্যমে রেসিডেন্টদের চিকিৎসা বিষয়ে নোবেলের মতো বিশ্বখ্যাত পুরস্কার অর্জন করা সম্ভব।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্য বক্তারা বলেন, শেখার প্রতি আজীবন আগ্রহ থাকতে হবে। শুধু ভালো চিকিৎসক হলেই চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে এই দেশকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে হবে।
এদিকে রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রামে নবাগত রেসিডেন্টদের শপথবাক্য পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুল আলম। মোট ১ হাজার ২৩৮ জন রেসিডেন্ট শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে রয়েছেন সার্জারি অনুষদের ৫৩৭ জন, মেডিসিন অনুষদের ৩৭৫ জন, শিশু অনুষদের ১১৫ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ১৩০ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮১ জন।
কালের আলো/এমডিএইচ