দরজায় কড়া নাড়ছে রমজান, বেড়েছে বেশ কিছু পণ্যের দাম

প্রকাশিতঃ 9:21 am | February 28, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

পবিত্র রমজান শুরু হতে আর কিছু দিন বাকি, আর এর মধ্যেই বাজারে বেড়ে গেছে বেশ কিছু পণ্যের দাম। মুরগি, মাছ, মাংস, লেবু, শসা ও বেগুনের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও, রোজার প্রচলিত কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোজা শুরু হতে মাত্র দুই-তিন দিন বাকি। এর পাশাপাশি মাসের শেষের দিকে ভোক্তাদের বাজার করতে উৎসাহী হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে, ফলে কিছু পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ২৮০-৩১০ টাকায় পৌঁছেছে। মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার শুরুতে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকে, তাই দাম বাড়তে থাকে।

মুরগির পাশাপাশি গরু ও খাসির মাংসের দামও বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে কিছুটা কম ছিল। আর খাসির মাংসের দাম প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ছাগলের মাংসও বিক্রি হচ্ছে ১০৫০-১১০০ টাকায়। মাছের দামেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। চিংড়ি, কই, শিং, তেলাপিয়া, রুই ও পাঙাশ মাছের দাম কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। তবে আলু, পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

রমজানে লেবু, শসা, ও বেগুনের চাহিদা বেশি থাকে, আর বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা হালি। বড় লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বেগুনের দাম ৪৫ থেকে ৬৫ টাকা, হাইব্রিড শসার দাম ৫০-৬০ টাকা, আর দেশি শসার দাম ৮০-১০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এসব পণ্যের দাম ছিল ১০-২০ টাকা কম।

রোজায় বেশি ব্যবহৃত পণ্যের মধ্যে খেজুর, ছোলা, চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোয় সরবরাহ বেড়েছে, ফলে এক মাসের ব্যবধানে খেজুরের দাম কেজিতে ২০-২০০ টাকা কমেছে। ছোলার দামও ১৫ টাকা কমে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিড়া, মুড়ি ও গুড়ের দাম আগের মতোই আছে, মানভেদে চিড়া ৭০-৮০ টাকা, আখের গুড় ১৪০-১৮০ টাকা, খেজুরের গুড় ২৫০-৩০০ টাকা এবং মুড়ি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে সয়াবিন তেলের বাজারে এখনও সরবরাহ সংকট রয়েছে। গতকাল তিনটি বাজার ঘুরে কিছু দোকানে মাত্র কয়েক বোতল সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন— রোজার আগেই সয়াবিন তেল কিনতে তাদের বিভিন্ন দোকান ঘুরতে হচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা গৃহিণী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে সয়াবিন তেল কিনতে বললেও কিনতে পারিনি, পরে অনেক দোকান ঘুরে এক লিটার তেল পেয়েছি।’

কালের আলো/এএএন/কেএ