বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের শাস্তির আইন সংশোধনের দাবি
প্রকাশিতঃ 5:31 pm | March 25, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজার আইনের সংশোধন চায় পুরুষ অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’। তারা বলছে, এই আইন শরীয়া পরিপন্থী। ইসলামি আইন অনুযায়ী নারী-পুরুষ উভয়কেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্ট অসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ডি এম সরকার বলেন, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয়, ব্যভিচার। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক শুধুমাত্র পুরুষের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ এটা ন্যায়বিচার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, বাস্তবে নারী নির্যাতনের ২ শতাংশ মামলা রায় হয়। বাকি ৯৮ শতাংশ প্রমাণই হয় না। এছাড়াও পবিত্র কুরআনে ব্যাভিচারী নারী–পুরুষ উভয়ের শাস্তির বিধান আছে। অথচ বর্তমান আইনটি শরীয়া পরিপন্থী। যেখানে শুধু মাত্র পুরুষদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিয়ের প্রলোভন দিলেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে আর এক্ষেত্রে তার পুরুষ সঙ্গীটির ৭ বছর পর্যন্ত জেল হবে, এরকম অবিবেচনামূলক বিধান কীভাবে আইন প্রণেতারা সম্মতি দিয়েছেন তা একেবারেই বোধগম্য নয়।
‘এখানে একজন নারীকে নির্বোধ, পুতুল হিসেবে বোঝানো হচ্ছে! যিনি কোনো পুরুষের প্রলোভনে পড়ে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অথচ এ ধরনের সম্পর্কে “Contributory Participation” থাকে। রাষ্ট্র যদি চায় কেউ প্রণয়ের কিংবা শারীরিক সম্পর্কে না জড়ায়, তবে আইন করে প্রেম করা বন্ধ করে সবাইকে শাস্তির দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। শুধু একপক্ষকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচার পরিপন্থি। আমরা মনে করি এ ধরনের সম্পর্ক ব্যভিচার তাহলে ব্যভিচারের নারী-পুরুষের দুজনের সমান শাস্তির বিধান করা হোক।’
এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, অনেক প্রণয়ের সম্পর্ক নারীরাও ভেঙে দেয়। একজন নারী যদি প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভেঙে অন্য কোনো ব্যক্তিকে বিয়ে করেন, তবে তার পুরুষ সঙ্গীটি কি পারবেন আইনের দ্বারস্থ হয়ে ওই নারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা অন্য কোনো মামলা করতে? উত্তর হচ্ছে- ‘না’। তবে, এমন ধরনের বৈষম্যমূলক আইন কীভাবে যৌক্তিক?
তিনি আরও বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা তা রক্ষা করা একটি নৈতিক এবং সামাজিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু তা আইনগতভাবে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা অযৌক্তিক এবং অসাংবিধানিক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান (সুপ্রিম কোর্ট), ঢাকা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন, সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাত ও সোনারগাঁও উপজেলার সভাপতি শাহ জালাল, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খোকন প্রমুখ।
কালের আলো/এএএন