বিএনপিতে দু:সময়ে আলো ছড়ানো তারকা রাজনীতিক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন

প্রকাশিতঃ 1:05 pm | March 26, 2025

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

বাবা জাফর আলী সরকার ও মা বেগম জেবুন নেসা দু’জনেই শিক্ষক ছিলেন। মা-বাবা’র পথ অনুসরণ করে জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক হননি। বরং শৈশব থেকেই মেধাবী ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনের কাছে সেবাই ছিল পরম ধর্ম। মানবসেবায় মহান ব্রত নিয়ে কঠোর শ্রম আর একাগ্রতায় একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে তাঁর। নেতৃত্ব দিয়েছেন সংগঠনকে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে তিনি এফসিপিএস (সার্জারি), এমএস (ইউরোলজি), এফসিপিএস (ইউরোলজি), এফআরসিপি (এডিন) ডিগ্রি অর্জন করেন। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাঁর জন্ম হলেও পৈতৃক ভিটা দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রাম।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব ছিলেন। অনেকদিন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান। গত বছরের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৬ সদস্যের এই কমিটিতে তিনি অন্যতম একজন। অনেক পরিচয়ে পরিচিত হলেও ডা.জাহিদ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবেই দেশজুড়ে খ্যাতি পেয়েছেন।

বিশেষ করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যখন প্রতিহিংসার কারাগারে বন্দি বেগম জিয়া, ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যেতে বারবার বাঁধা দেওয়া হচ্ছিল ঠিক সেই সময়ে উদ্বিগ্ন দেশবাসীর কাছে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতেন ডা.জাহিদ। ওই সময় খালেদা জিয়ার বার্তাও দেশের মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত পৌঁছে দিতেন তিনি। বলতেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য দলের নেতাকর্মী এবং সংবাদকর্মীসহ যারা জনমত তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) এবং তার পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার জন্য দোয়া করতে বলেছেন।’

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক আগেই আপোসহীন খেতাবে ভূষিত হয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিগত ১৫ বছরে বেগম খালেদা জিয়ার নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলটির অন্যতম নীতিনির্ধারণী নেতা ডা.জাহিদ। সেই সময় খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকেই ‘মাইনাস’ করতে বারবার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল হাসিনা সরকার। কিন্তু চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সব অপকৌশল ভেস্তে দিতে সক্ষম হয়েছেন। দলের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত প্রতিটি নেতাকর্মীর ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি দলীয় হাইকমাণ্ডের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন, স্নেহ করেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও তিনি ভীষণ পছন্দের। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও লক্ষ্যে অবিচল থাকার ধৈর্য্যওে তিনি অতুলনীয়। তাঁর ওপর দিয়ে কম ঝড় বয়ে যায়নি।

সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দায়িত্ব, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে অবিচল থাকার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। উজান-ভাটির টালমাটাল স্রোতের মধ্যেও নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছেন। এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। যেকোন রাজনৈতিক নেতার কাছেই নিজের বৃহৎ দলের নীতিনির্ধারণী বডিতে অন্তর্ভূক্তি চির আরাধ্য স্বপ্ন, একই সঙ্গে সম্মান ও গৌরবের। ঠিক তেমনি এমন কাঙ্ক্ষিত সম্মান ডা.জাহিদকেও রূপান্তরিত করেছে বিএনপি’র রাজনীতিতে দু:সময়ের আলো ছড়ানো এক তারকা রাজনীতিক হিসেবে।

লন্ডনে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুরু থেকেই দেশটিতে অবস্থান করছেন ডা.জাহিদ। পাশাপাশি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে তাঁর। জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করবেন এটি নিশ্চিত। তবে ময়মনসিংহ-৪-সদর আসন, ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও না কী দিনাজপুর-৬ আসন থেকে তিনি ভোট করবেন এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। প্রতিটি আসনেই তাকে বরণ করে নিতে উন্মুখ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। কারণ, তিনি যেখান থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তাঁর মন্ত্রীত্ব নিশ্চিত। এলাকার উন্নয়ন-অগ্রগতিতে তাঁর মতো হেভিওয়েট রাজনীতিক প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। এমন একজন ‘মাষ্টার পলিটিশিয়ান’কে নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না কেউই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএএএমকে