গাজার খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের দাবি হাস্যকর: জাতিসংঘ
প্রকাশিতঃ 11:51 am | April 02, 2025

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো:
গাজায় খাদ্যসংকট অস্বীকার করে ইসরায়েল বলেছিল, দীর্ঘদিন চলার মতো পর্যাপ্ত খাদ্য গাজায় রয়েছে। তবে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক বক্তব্যে তেল আবিবের দাবিকে হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ত্রাণ সরবরাহ সহায়তায় জড়িত ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট দাবি করেছে, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়ে ২৫ হাজারের বেশি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। সেগুলোতে কম করে হলেও সাড়ে চার লাখ টন ত্রাণ থাকার কথা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোগাট বলেছে, পুরো যুদ্ধের সময় যে পরিমাণ ত্রাণ গাজাবাসী পেয়েছে, তার এক তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ যুদ্ধবিরতির সময়ে সরবরাহ করা হয়েছে। হামাস যদি বাগড়া না দেয়, তবে সেখানে মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের খাবার রয়েছে।
তবে তাদের বিবৃতিকে খারিজ করে দিয়ে জাতিসংঘ মুখপাত্র স্টেফানি ডুজারিক বলেছেন, এগুলো হাস্যকর কথাবার্তা। আমাদের সহায়তা একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
গাজায় থাকা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ২৫টি বেকারি সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বেকারিগুলো নিশ্চয়ই খেয়ালখুশি মতো বন্ধ করে দেওয়া হয়নি! ময়দা আর গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বেকারি বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২ মার্চ থেকে গাজায় কোনও ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সমস্ত জিম্মিকে হামাস মুক্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত ত্রাণ সরবরাহ স্থগিত থাকবে।
কিছুদিন পরই গাজায় ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে দুমাস যুদ্ধবিরতির অবসান হয়।
ত্রাণ সহায়তা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়ে কোগাট বলেছে, গাজায় সার্বিক ত্রাণ সহায়তার ৩০ শতাংশের মতো আসে জাতিসংঘের তরফ থেকে। তাই, তাদের সরবরাহ তলানিতে ঠেকলেও সমস্যা নেই। হাল ধরার মতো আরও আন্তর্জাতিক সংস্থা এখানে কর্মরত আছে।
তবে তাদের মতো এত হালকাভাবে বিষয়টি দেখতে পারছেন বা ডুজারিক। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ধরে রেখেছে। ত্রাণ সরবরাহের জন্য এর তেমন কোনও বিকল্প নেই।
এদিকে, গাজায় খাদ্য সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে হামাসও। সেখানকার অবস্থা দুর্ভিক্ষের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে দাবি সশস্ত্র গোষ্ঠীটির। তাদের অভিযোগ, আধুনিক যুগের ভয়াবহতম মানবিক সংকট সৃষ্টির জন্য একমাত্র দায়ী ইসরায়েল।
কালের আলো/এমডিএইচ