এখনও বাড়ি ফিরছে মানুষ, ভাড়া স্বাভাবিক 

প্রকাশিতঃ 1:06 pm | April 02, 2025

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, কালের আলো:

ঈদের দুইদিন পরও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে সাধারণ মানুষ। গতকাল পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও আজ থেকে স্বাভাবিক ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো। আজ সকাল পর্যন্ত যাত্রী সংকট না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে জানায় কাউন্টারগুলো।

বুধবার (০২ এপ্রিল) রাজধানীর কল্যাণপুর ও গাবতলী বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে লম্বা সরকারি ছুটি থাকায় যাত্রীরা এখনও বাড়ি ফিরছেন। নাড়ির টানে বাড়ি যেতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই গাবতলী ও কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে উপস্থিত হয়েছেন। কারো হাতে অগ্রিম টিকিট, আবার কারো হাতে ব্যাগ কিংবা লাগেজ। অনেকে সন্তান নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কেউ যাচ্ছেন বগুড়া, কেউ যাচ্ছেন বরিশাল ও যশোর।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের জন্য ৪০ আসন বিশিষ্ট বাসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ। সেখানে দেখা যায়, গাবতলী থেকে বরিশাল ৭১২ টাকা, গাবতলী থেকে পটুয়াখালী ৮১৯ টাকা, গাবতলী থেকে যশোর ৬৭৯ টাকা, গাবতলী থেকে বাগেরহাট ৮৯৩ টাকা, গাবতলী থেকে কালীগঞ্জ ৯৯৩ টাকা, গাবতলী থেকে সাতক্ষীরা ৯২০ টাকা, গাবতলী থেকে বেনাপোল ৭৩০ টাকা, গাবতলী থেকে কুষ্টিয়া ৬৭৬ টাকা ও গাবতলী থেকে মেহেরপুর ৭২৮ টাকা এবং কল্যাণপুর থেকে বগুড়া ৭১২ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যাত্রী কমে যাওয়ায় বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া থেকেও কম দামে টিকিট বিক্রি করছে কাউন্টারগুলো।

কল্যাণপুরে হানিফ বাস কাউন্টারের মোশাররফ বলেন, যাত্রী কমেছে। কিন্তু কোনো বাস খালি যাচ্ছে না। আজ সকালে কল্যাণপুর থেকে আমাদের দুটি বাস ছেড়ে গেছে। দুটি বাসেই পরিপূর্ণ যাত্রী ছিল। সকাল পর্যন্ত ঈদের হিসেব অনুযায়ী ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করছি। কিছু কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রী না পেলে এখন থেকে গাড়ির কিছু সিট খালি যাবে। বর্তমানে বগুড়া পর্যন্ত আমরা ভাড়া নিচ্ছি ৫৫০ টাকা এবং জয়পুরহাটের ভাড়া নিচ্ছি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা।

কল্যাণপুরে তাওহিদ নামের এক যাত্রী বলেন, আমি বগুড়া যাব। টিকিট কেটেছি আগের দামে। টিকিটের জন্যও বেশি কষ্ট করতে হয়নি। কল্যাণপুর আসার পর কাউন্টারগুলো ডেকে টিকিট দিয়েছে।

গাবতলীতে বরিশালগামী সূর্যমুখী পরিবহনের মোহাম্মদ নূর বলেন, বরিশালের যাত্রী কমে গেছে। ৫০০ টাকায়ও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রী কমে গেছে। তবে কিছু কিছু যাত্রী এখনও বাড়ি যাচ্ছে। আমাদের গাড়ি সকাল পর্যন্ত ফুল গেছে। তবে আজকে আর ফুল গাড়ি যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরিশাল থেকেও গাড়ি খালি আসছে আবার গাবতলী থেকেও গাড়ি খালি যাবে বলে জানান তিনি।

খুলনাগামী মানিক নামের এক যাত্রী বলেন, খুলনা যাব, এজন্য এখানে এসেছি। সব কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে কেউ কেউ ঈদের বাড়তি ভাড়া চাচ্ছে। আবার কেউ কেউ স্বাভাবিক সময়ের ভাড়া চাচ্ছে। কম টাকায় টিকিট পেয়েছি, এজন্য বাড়তি ভাড়া চাওয়া গাড়ির টিকিট কাটিনি বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এসএকে