নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিলে ফ্রি হোম ডেলিভারি: মেয়র আতিক
প্রকাশিতঃ 7:19 pm | August 08, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলোঃ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি হলে ফ্রি হোম ডেলিভারি বা কোরবানির পর কাটা মাংস নাগরিকদের বাসায় বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, মহাখালী ও প্রতি ওয়ার্ডে ৫টি করে মোট ২৭৩ টি ওয়ার্ডে আমরা যেসব স্থান নির্ধারণ করেছি পশু জবাইয়ের জন্য, সেখানে পশু জবাই দিলে নাগরিকদের বাড়িতে বাড়িতে আমরা বিনামূল্যে মাংস পৌঁছে দেবো।
এসময় তিনি আঞ্চলিক কার্যালয় -৩ এ গড়ে তোলা আধুনিক জবাইখানায় পশু এনে কোরবানি দিলে কোরবানির খরচের ওপর ২৫ শতাংশ মূল্যছাড়ের ঘোষণার কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
মেয়র বলেন, মহাখালীতে আধুনিক পদ্ধতিতে একটি পশু জবাইখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এটাকে আমরা একটি পাইলট মডেল প্রকল্প হিসেবে নিতে চাই। এর সফলতার হার দেখতে চাই। এই জবাইখানায় পশু কোরবানি দেওয়া হলে মাংস কাটার মজুরির ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। মাংস কাটা কর্মীরা (কসাই) সাধারণত গরুর দামের প্রতি হাজারে ২০০ টাকা নেয়। এটার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেবো আমরা।
মেয়র আতিক জানান, প্রাথমিকভাবে মহাখালীতে ১০০টি পশু জবাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে যারা আসতে পারবেন না তারা ওই ২৭৩টি স্থানে পশু নিয়ে যেতে পারেন। আর পরেরবার দ্রুত সময়ে পশু জবাইয়ের জন্য স্লোটার মেশিন আনবো।
বিভিন্ন প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ঈদের সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তবে নাগরিকেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করতে পারে তার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার প্রায় তিন লাখ পশু জবাই হবে বলে মনে করছি। যা গতবারের চেয়ে প্রায় ৬৮ হাজার বেশি।
‘নগরজুড়ে ১০০ জন ইমাম ও ২০০ জন কসাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা দরকার। এর জন্য লিফলেট বিতরণ, মসজিদে ইমাম খতিবদের মাধ্যমে বয়ান দেওয়া হচ্ছে, মাইকিং করা হচ্ছে, গণমাধ্যমে বিবৃতি ও বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, বর্জ্য দ্রুত ডাম্পিংয়ের জন্য আমাদের ২৪শ কর্মী, বেসরকারি ১১শ কর্মীসহ মোট প্রায় সাড়ে নয় হাজার কর্মী কাজ করবে। বর্জ্য পরিবহনে সক্ষম ৪৩৮টি গাড়ি থাকবে। মহাখালীতে আনিক-৩ এর অফিসে অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর ৯৮৩০৯৩৬। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়কে প্যান্ডেল টাঙিয়ে কোরবানির পশু প্রদর্শনের ঘটনায় চারজনকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ডিএনসিসি।
এ বিষয়ে আতিক বলেন, আমাদের কোরবানির ঈদের সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় যদি সড়কেও পশু রেখে আবর্জনা ফেলা হয় তাহলে তা সিটি করপোরেশনের জন্য কাজ আরও কঠিন করে তোলে। এ বিষয়ে আমরা নগরবাসীর সচেতনতা আশা করছি। চারজনকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরও যদি কেউ এমন করে আরও জরিমানা করা হবে।
তবে কত সময়ে এবার ঈদের বর্জ্য অপসারণ করা হবে সে বিষয়ে নির্ধারিত করে কিছু বলেননি আতিক।
তিনি বলেন, ঈদের পরদিন বিকেল ৩টায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আবার বসবো এবং কতটুকু সময়ের মধ্যে শেষ করেছি তা জানাবো। আমরা আগে কাজ করতে চাই, আগে থেকে কিছু বলতে চাই না।
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মঞ্জুর হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। আর ঈদের দিনে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে। এই চ্যালেঞ্জ নিতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঈদে গ্রামমুখী নাগরিকদের জন্য মেয়রের ১০ নির্দেশনা
এই সময় ঘরমুখো নগরবাসীর জন্য ১০টি নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। নির্দেশনাগুলো হলো-
১. বাসার সকল কক্ষের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। বাথরুম/টয়লেটের কমোড ঢেকে যান।
২. বাথরুমের কমোড ঢেকে যাবেন। বালতি, বদনা, ড্রাম খালি করে উল্টো করে রেখে যান। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং জমতে না পারে।
৩. টবগুলো এমনভাবে রেখে যান যেন পানি না জমতে পারে। বাড়ির ছাদে বা গাড়ি বারান্দার ছাদে স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা বা পানি জমা থাকলে সেটি দ্রুত পরিষ্কার করুন, যাতে আর পানি না জমে থাকে।
৪. ফ্রিজের পেছনের ট্রে শুকিয়ে রাখুন। ফ্রিজ খালি করে বন্ধ করে যেতে পারেন। ট্রেতে ন্যাপথালিন দিয়ে রাখতে পারেন। এসিও বন্ধ করে যাবেন।
৫. রান্না ঘরে, বারান্দায় কোথাও যেন পানি না জমে থাকে খেয়াল করুন।
৬. ঘর পরিষ্কার রাখুন। ঘর মশাবান্ধব করে তুলবেন না।
৭. যাওয়ার আগে ঘরের ফ্লোর বারান্দা বাথরুম পরিষ্কার করে যান। এরোসল ছিটিয়ে যান। ঘরের ঝুল পরিষ্কার করুন।
৮. অব্যবহৃত বোতল/কন্টেইনার অযথা রেখে দিবেন না। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দিন।
৯. সোফা, পর্দা ও ঝুলন্ত কাপড়ের নিচে এডিস মশা লুকিয়ে থাকে। এসব জায়গায় অ্যারোসল স্প্রে করে যাবেন।
১০. অফিস, আঙিনা এবং কর্মস্থলেও অনুরূপ ব্যবস্থা নিন।
নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে ও এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধকল্পে এই নির্দেশনাগুলো পালনে বিনীত অনুরোধ জানান মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্যানেল মেয়র ডেইজি সরওয়ার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এনএল/এমএইচএ