কালের আলো রিপোর্ট:
সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। শান্তির বার্তা নিয়েই আসেন ধরাধামে। অশান্তি ও অন্যায়কে দমন করে পৃথিবীতে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজে সদাচারী ও নিরপরাধ মানুষকে দান করেন শান্তি ও স্বস্তি। শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাব তিথিকে মূলত শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে উদ্যাপন করে থাকেন ভক্তরা। আবহমান কাল ধরেই যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশে এই ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসব আমেজের মধ্য দিয়ে শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক সুমহান ঐতিহ্যও ফুটে উঠেছে। ঔদার্য, পারস্পরিক শুভেচ্ছাবোধ ও অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা হারাননি এদেশের মানুষ। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও অটুট রাখতে রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর উৎসব ও মিছিলে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে একসঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন। তিন বাহিনী প্রধানের বর্ণাঢ্য উপস্থিতি এই উৎসব আনন্দেও যোগ করে নতুন মাত্রা। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে উপস্থিত হওয়াকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে মন্তব্য করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভূতপূর্ব এই নজির দেশের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রীতির এই বন্ধন দেশের ঐক্য ও শক্তির প্রতীক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে এক ধর্ম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের সৌহার্দ্য অক্ষুণ্ন রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে চলেছেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান। এদিন বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে তিনবাহিনীর প্রধান জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় নিজেদের বক্তব্যে তাঁরা বলেছেন, এই দেশ সবার, এই দেশে আমরা শান্তিতে, সুন্দরভাবে সবাই বসবাস করব। জন্মাষ্টমীর এই শোভাযাত্রা আবারও বিশ্বের কাছে প্রমাণ করবে, বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। সবার সঙ্গে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়া নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জন্মাষ্টমীর উৎসব ও কেন্দ্রীয় মিছিলের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব।

এদেশ সবার, আমরা শান্তিতে, সুন্দরভাবে সবাই বসবাস করব
রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর উৎসব ও মিছিলে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, ‘শত শত বছর ধরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বাঙালি, পাহাড়ি, উপজাতি সবাই মিলে এই দেশে অত্যন্ত শান্তিতে ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে যাচ্ছি। আজকে আমাদের অঙ্গীকার হবে সেই সম্প্রীতি, সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আমরা সব সময় বজায় রাখব এবং আমরা একসঙ্গে এই দেশে, এই দেশ সবার, এই দেশে আমরা শান্তিতে, সুন্দরভাবে সবাই বসবাস করব।’
- এদেশ সবার, আমরা শান্তিতে, সুন্দরভাবে সবাই বসবাস করব
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
সেনাবাহিনী প্রধান
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। কোনো ধর্ম-জাতি, বর্ণ-গোত্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এই দেশ সবার। সবাই আমরা এই দেশের নাগরিক। আমাদের সবার সমান অধিকার এদেশের ওপরে আছে এবং সেভাবেই আমাদের সামনের সোনালি দিনগুলো দেখতে চাই।’ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘এখানে বাদ্য বাজছে। এই আনন্দে আমাদেরকে সাথে নেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
দেশে সব সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে সব ধর্ম-বর্ণের সবার শান্তিতে সুন্দরভাবে বসবাসের প্রত্যাশার কথা জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এই উৎসবে নৌবাহিনীর প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নাম উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে, আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব।…আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবাস করবেন। আপনাদের যত ধর্মীয় পরব (অনুষ্ঠান), আপনারা উদ্যাপন করবেন, আনন্দ উদ্যাপন করবেন। আমরা একসঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব।’ তিনি বলেন, ‘জন্মাষ্টমীর এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। এই আদর্শের ভিত্তিতেই আমরা একসঙ্গে সুন্দরভাবে বসবাস করব।’
ঢাকা শহরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর মিছিল একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান ছিল উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘উনিশ শতকে এবং বিশ শতকে এটা সব সময় হতো। তারপর একসময় বন্ধ হয়ে যায়। আবার শুরু হয়েছে। তিনি আশা করেন, এই উৎসব সব সময় জারি থাকবে। মিছিল সব সময় জারি থাকবে। এ প্রসঙ্গে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা আপনারা চান, ইনশাআল্লাহ আমরা সেসব সাহায্য-সহযোগিতা আপনাদের দেব।’ নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার অনেক পুরোনো জায়গা। এই আজিমপুর, পলাশী; এখানে আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি। এটা আমার অনেক স্মৃতিবিজড়িত জায়গা।’

এই শোভাযাত্রা আবারও প্রমাণ করবে, বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ
সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ‘সম্মানিত অতিথি’র বক্তব্যে বলেন, ‘জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানবতার এক উদাত্ত আহ্বানও। শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা-জীবনাদর্শ শুধু অসত্য-অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসই জোগায় না, একই সঙ্গে অসহায়-আর্তমানবতার পাশে দাঁড়াতে এবং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।’
- এই শোভাযাত্রা আবারও প্রমাণ করবে, বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান
নৌবাহিনী প্রধান
বাংলাদেশ নৌবাহিনী
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জন্মাষ্টমীসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সার্বিকভাবে জনগণের নিরাপত্তা ও সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা জানান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, জন্মাষ্টমীর এই শোভাযাত্রা আবারও বিশ্বের কাছে প্রমাণ করবে, বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। যেখানে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে দেশ পেয়েছি, যে স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। আর এই দেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুখী ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।’ তিনি বলেন, ‘আসুন, পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে আরো শক্তিশালী করি। শ্রীকৃষ্ণ যেন সমাজে ন্যায় ও আলোর সত্য প্রজ্জ্বলিত করেন।’
অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে
অনুষ্ঠানে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ সম্পর্কে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সত্যের পথে অটল থাকতে হবে। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে। সবার সঙ্গে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’
পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠার স্মৃতিচারণ করে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘এখান (পলাশীর মোড়) থেকে বেশি দূরে না, এই জয়কালী মন্দিরের পাশেই আমার বাসা ছিল এবং লক্ষ্মীবাজারে বড় হয়েছি। আমার লেখাপড়া ওখানেই। তো আমার অনেক বন্ধুবান্ধব হিন্দু সম্প্রদায়ে আছে। এখনো তাঁদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে, ওঠাবসা আছে। খ্রিষ্টানও আছে। এবং আমরা ছোটবেলা থেকেই একটা সম্প্রীতির মাধ্যমে বড় হয়ে উঠেছি, যেখানে আমরা কখনো ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করিনি।’ শান্তি ও উন্নতির জন্য ঐক্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা শুধু অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসই জোগায় না, ন্যায়ের পথেও চলতে শেখায়। এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে বিশ্বের মানচিত্রে এই বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’
- অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে
এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন
বিমান বাহিনী প্রধান
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

তিন বাহিনী প্রধানের একসঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ঐতিহাসিক ঘটনা
জন্মাষ্টমী উৎসব ও মিছিল উপলক্ষে পলাশী মোড়ের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর প্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান ও বিমানবাহিনীর প্রধানের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।’ জয়ন্ত কুমার বলেন, ‘আমরা চাই সেই বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান পাশাপাশি থাকবে।…ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস চন্দ্র পাল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
ধর্মীয় গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের পর আলোচনা পর্ব শুরু হয়। আলোচনা শেষে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় মিছিলের উদ্বোধন করেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান। তাঁদের সঙ্গে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং জন্মাষ্টমী উৎসবের আয়োজকেরাও প্রদীপ প্রজ্বালনে অংশ নেন। পলাশীর মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য এই মিছিল বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলে হিন্দুধর্মাবলম্বী হাজারো নারী-পুরুষ অংশ নেন। মিছিলে মা-বাবার সঙ্গে শিশুরাও ছিল। তাদের অনেকে এসেছিল বর্ণিল সাজে। কেউ রাধা, কেউ কৃষ্ণ সেজে এসেছিল। এই মিছিলে শ্রীকৃষ্ণের রথ টেনে নিয়ে গেছে একটি হাতি।
কালের আলো/এমএএএমকে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫ । ৫:৫২ অপরাহ্ণ