নবীনদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ, নির্বাচনে ৫ হাজার নৌ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ । ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছেন তরুণ কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ৩ বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে চির কাক্সিক্ষত কমিশনপ্রাপ্তির আনন্দক্ষণ। দেশের সমুদ্রসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃপ্ত শপথ চোখে-মুখে। অবারিত আনন্দের স্রোতধারায় ও ভাতৃত্বের সীসা ঢালা প্রাচীরের অবিচ্ছেদ্য এক বন্ধন। চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের মনোমুগ্ধকর আয়োজন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩-এ ব্যাচের ২ জন নারীসহ ৩১ জন মিডশিপম্যান এদিন সাব লেফটেন্যান্ট পদে লাভ করেন কমিশন।

অদম্য পরিণত মেধাবী তরুণ কর্মকর্তাদের নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব ও দূরদৃষ্টিতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নির্মোহ ও বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় বলেছেন, ‘তোমাদের মতো তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত সুবিধা এবং সুযোগের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আজকের এই বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি। এসকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দানে যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে তোমাদের প্রত্যেককে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। দেশের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মানসিকতায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে।’

প্রধান অতিথি হিসেবে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ৫ হাজার নৌসদস্যকে মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাস হতে সর্বসাধারণের জানমাল, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও নৌবাহিনী সদস্যগণ নিয়মিত উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত জনগণকে জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

  • নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে
  • নৌবাহিনী তার ভবিষ্যৎ অপারেশনাল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করছে
  • ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি
  • বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
  • সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হতে হবে অগ্রণী

আপনারা জানেন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা প্রদান করেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নৌবাহিনীর সদস্যগণকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাহাজ ও ক্রাফটসহ আনুমানিক ৫ হাজার নৌসদস্যকে এই নির্বাচনকালে মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে গৌরবময় পদক তুলে দেন। মিডশিপম্যান সৈয়দ তাহসিন আহমেদ, (এল), বিএন সকল বিষয়ে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। মিডশিপম্যান এস এম আবরার ওবাইদ, (ই), বিএন প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। পরে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান ও প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মিডশিপম্যানদের অভিভাবকরা নবীন কর্মকর্তাদের এ্যাপুলেট পরিয়ে দেন। এছাড়াও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নেভাল এভিয়েশনের মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টারের বিশেষ ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।

নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান ২০২৩ আলফা ব্যাচের এই মনোরম ও বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজ এই বিশেষ দিনে আপনাদের মাঝে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমার শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। আজ ৭ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাস। আমি উপস্থিত সকলকে বিজয়ের মাসের বিশেষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এই দিনে প্রথমে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। বিজয়ের মাসে আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা দেশের স্বাধীনতার লক্ষে আত্মোৎসর্গ করে আমাদের মাঝে অমর হয়ে রয়েছেন। আজকের অনুষ্ঠানের উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সদর আমন্ত্রণ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘শান্তিতে সংগ্রামে সমুদ্রে দুর্জয়’-এই মূলমন্ত্রকে উপজীব্য করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষা, সমুদ্র সম্পদ আহরণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা প্রদান, শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নৌবাহিনী সদা তৎপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই সাথে দেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমধারা বজায় রাখার লক্ষ্যে নৌবাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। সাগর ভিত্তিক অর্থনীতি তথা ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে নৌবাহিনী সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি এতদ সংশ্লিষ্ট উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে যেকোন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমন, জেলেদের সুরক্ষা এবং সমুদ্র সম্পদ আহরণে কার্যকর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের জলসীমায় দেশি-বিদেশি সকল ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানে আমরা সর্বদা নিয়োজিত রয়েছি। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রম পরিচালনাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও উৎপাদনে উল্লেখজনক ভূমিকা রাখছে। এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতীয় মৎস্য পুরস্কার লাভ করে, যা দেশমাতৃকার জন্য নৌবাহিনীর নিবেদিত কার্যক্রমের বহিঃপ্রকাশ। এ সকল কার্যক্রমের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনস্থ চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডকে প্রদানের ফলে বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সংখ্যা এবং সামগ্রিক কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নৌবাহিনী তার ভবিষ্যৎ অপারেশনাল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করছে
আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে নৌবাহিনী তার ভবিষ্যৎ অপারেশনাল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন এর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ সংযোজনের অংশ হিসেবে দেশীয় শিপইয়ার্ডে লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে দুইটি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার, দু’টি আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম ক্রয় করা হয়েছে। একই সাথে গভীর সমুদ্রে জরিপ কার্য পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হতে চারটি মাল্টিমিশন ইন্টারসেপটার বোট নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ সহায়তায় ব্যবহারের জন্য জাপান হতে পাঁচটি পেট্রোল বুট আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেশীয় তিনটি শিপইয়ার্ডে আমরা যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে তিনটি ডাইভিং বোট এ বছর নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে এবং তিনটি এলসিটি নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, গত ৩০ নভেম্বর আমাদের বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া সফলভাবে গভীর সমুদ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের চারজন উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এই মহড়া প্রত্যক্ষ করেছেন। সদ্য সমাপ্ত এই মহড়ায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফট হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস সাফল্যের সাথে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মেরিটাইম সংস্থা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করেছে। এবারের সমুদ্র মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের মিসাইল সফলভাবে ফায়ার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য আমরা এবারই প্রথমবারের মতো সদ্য সংযোজিত আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেল, ভিসেট ও ডেটা লিংকসহ বিভিন্ন সেন্সরভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করেছি। এসব প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতিটি মিসাইল সুনির্দিষ্ট টার্গেটে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা উপস্থিত অতিথিগণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন।’

ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি
ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বানৌজা পতেঙ্গা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১৫০ থেকে ২৫০ এ উন্নীতকরণের কার্যক্রম এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘একই সাথে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনী কর্তৃক একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে হতে এই মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা নৌ অঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আশার আলো স্কুল এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নেভাল ইনস্টিটিউট অব হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর প্রায় ৮০০ কর্মকর্তার জন্য ঢাকায় নেভাল অফিসার্স হাউজিং সোসাইটির কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া অফিসার ও নাবিকদের জন্য ইতোপূর্বে নির্মিত সাভার কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গৌরবময় অবদানের কথা তুলে ধরে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার গর্বিত অংশীদার হিসেবে সারাবিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে লেবাননে একটি জাহাজ এবং সাউথ সুদানে একটি রিভারাইন কন্টিনজেন্ট সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এতে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান বিশ্বের বুকে প্রশংসিত হয়েছে এবং দেশের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও কাতার এবং কুয়েতে ডেপুটেশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার জন্য আমরা আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

প্রাণবন্ত প্যারেড ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করেছে
প্রিয় প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজ তোমাদের চমৎকার কুচকাওয়াজ দেখে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। তোমাদের প্রাণবন্ত প্যারেড ও উচ্ছ্বল তারুণ্য আমাদের আশান্বিত করেছে। তোমাদের স্মরণ রাখতে হবে সমুদ্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি অর্জন করা আমাদের মূল লক্ষ্য। সঠিকভাবে সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক অর্থনীতি ও তথা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। ক্রমবর্ধমান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য তোমাদেরকে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রত্যেককে দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের সেবায় ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে তোমরা আত্মনিয়োগ করবে এটাই আমার প্রত্যাশা।’

সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হতে হবে অগ্রণী
কমিশনপ্রাপ্ত মিডশিপম্যানদের উদ্দেশ্যে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘তোমাদের সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ তোমরা ৩১ জন সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী একাডেমির সীমানা পেরিয়ে নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। তোমাদের মনে রাখতে হবে যে কঠোর প্রশিক্ষণ তোমরা সফলভাবে সমাপ্ত করে চলেছো তা তোমাদের ভবিষ্যৎ উৎকর্ষতা অর্জনে সূচনা মাত্র। সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তোমরা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। আমি আশা করবো তোমরা দেশপ্রেম, শৃঙ্খলাবোধ এবং কর্তব্যনিষ্ঠায় হবে দৃষ্টান্তমূলক। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশের প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে ও আত্মোৎসর্গ করতে তোমরা সদা প্রস্তুত থাকবে।’

আজ থেকে তাঁরা শুধু আপনাদের সন্তানই নয় তারা প্রত্যেকে এদেশের অমূল্য সম্পদ
নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানেরা আজ দেশমাতৃকার সেবায় জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়ে নৌবাহিনীর একেকজন গর্বিত কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে। এই গৌরবময় সাফল্যের অংশীদার আপনারাও। আমি আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনারা দোয়া করবেন, আপনাদের সুযোগ্য সন্তানেরা প্রত্যেকে যেন দেশপ্রেম ও বীরত্বের আদর্শ উদাহরণ হয়ে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনাদের সন্তানেরা হবে এই নৌবাহিনীর ভবিষ্যত কর্ণধার। আজ থেকে তারা শুধু আপনাদের সন্তানই নয় তারা প্রত্যেকে এদেশের অমূল্য সম্পদ।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন