মেহেদি হাসান আব্দুল্লাহ/আব্দুল্লাহ আল নোমান, কালের আলো:
কোন অবস্থাতেই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চান না বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি তিনটি ঘটনাকে প্রাসঙ্গিত করে নিজের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতিবিনিময়ে। বলেছেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল। আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থা থেকে যদি চিন্তা করি, আমার একপাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর একটি জানাজা এবং আরেক পাশে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। আমার মনে হয়, এটি আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতা, কর্মী, সদস্য ও সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দু’টি বাছবিচার করার জন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ যে, ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনও কারণ নেই আমাদের।’
সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সমালোচনা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়। এমন সমালোচনা চাই, যা দেশের সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।’ সব রাজনৈতিক পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেটি যেন কোনোভাবেই মতবিভেদ বা জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ আগস্টে আমরা দেখেছি তার পরিণতি কী হতে পারে।’ নতুন প্রজন্ম আশার খোঁজে আছে, সব প্রজন্মই একটি দিকনির্দেশনা খুঁজছে বলে মন্তব্য করেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী, বার্তা সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকেরা কথা বলেন। সবার বক্তব্য আগ্রহ নিয়ে শোনেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। এসব মতপার্থক্য নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে হবে। কিন্তু মতবিভেদ যেন জাতিকে বিভক্ত করে না ফেলে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যেকোনও মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা একটি মানুষ একটি দল বা যেভাবেই আমরা বিবেচনা করি-তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি। সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করবো-দলমত নির্বিশেষে, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হবো।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু কোনোভাবেই যাতে সেটি মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজ সেজন্য অনেকের মুখে অনেক হতাশার কথা আমরা শুনি। কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে একজন বক্তা বলে গেছেন, সামানে আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। আমাদের বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো নিয়ে যাতে আলাপ ও আলোচনা করতে পারি, আমাদের যেকোনও মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস, যেটা আমরা ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ থেকে শুরু করতে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এনটিভি’র জহিরুল হক সাহেব, অনেক আগে আমার একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সম্ভবত উওনাকে আমি বলেছিলাম অথবা মতি ভাই (মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী) এখানে উপস্থিত আছেন। সম্ভবত ওনার সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম- আমাদের যেকোনও মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে। আমাদের জবাবদিহিতা চালু রাখতে হবে।’

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর কয়েকটি স্থানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরে আসার পরে যে কয়বার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সাভারে গিয়েছিলাম। আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে-নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে। নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি প্রজন্মই মনে হয় একটি গাইডেন্স চাইছে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয় আমার কাছে মনে হয়, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।’
দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষকের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’ চালুর ভাবনা রয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা ২০ কোটি মানুষের খাবারের সংস্থান করছে, সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো ভেন্যু নেই। তাদের সমস্যাগুলো আমাদেরই জানতে হবে।’ নারীশিক্ষায় মা ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাতে প্রিভেনশন মডেল অনুসরণ করার কথা জানিয়ে বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করা গেলে-কোন খাবার না খেলে কিডনি, হার্ট বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে-তাহলে রাষ্ট্রের ব্যয় কমে, মানুষও সুস্থ থাকে। এ নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা আছে।’
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩:১০ অপরাহ্ণ