আব্দুল হামিদ/ইব্রাহিম মিঠু, কালের আলো:
মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জরুরির সরকারের সময়ে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাজীবন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান। কারাগারেও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তার বিষয়ে চমকপ্রদ তথ্য তুলে ধরেছেন এই বর্ষীয়াণ সম্পাদক। নিজের জেল জীবনের স্মৃতি, খালেদা জিয়ার কষ্ট, তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে অজানা একটি তথ্য। তারেক রহমান যে ওয়ার্ডে ও বিছানায় ছিলেন একই ওয়ার্ডে ও বিছানায় থাকতেন তিনিও।
জেলখানার ভেতর থাকা আরেকটি জেলখানার কথা জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘সেটা কিন্তু সুরক্ষিত নাম ‘চম্পাকলি’। এগুলো আপনারা ভবিষ্যতে জেনে নেবেন উনার (তারেক রহমান) মুখ থেকেই। একটা কথা বলতে চাই, যখন আমাকে শেষ পর্যন্ত একটা ডিভিশন দেয়া হলো, তখন আমাকে সরিয়ে নিয়ে দেয়া হলো মেডিকাল ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি, বেড নাম্বার থ্রি, এটি তারেক রহমান সাহেবের হয়তো মনে আছে। ওয়ার্ড নাম্বার থ্রি বেড নাম্বার থ্রি কেন ওই বেডে তিনি ছিলেন, আমাকে যখন নেয়া হলো পুলিশ বলল, তাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। সরকার যাই বলে বলুক। জেলখানার মধ্যে আমরাই রাজত্ব করি। আমরাই শাসন করি। এই বেডে আমরা কাউকে শুতে দেই না। সাধারণ লোকরা এতটাই শ্রদ্ধা করেন তারেক রহমানকে। এটা খুব ইম্পর্টেন্ট।’
বিএনপির নতুন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের (কৃষক, ড্রাইভার, গৃহকর্মী) জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এরপর পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতা ও মূল্যবোধে শিক্ষিত করতে হবে। যাতে তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে। সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।’ সম্প্রতি এক সমীক্ষার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এই আগ্রহকে ভোটে রূপান্তর করতে হবে।’
শফিক রেহমান তার বক্তব্য শুরু করেন প্রিয় গানের কলি দিয়ে, ‘যারা স্বর্গত তারা এখনো জানে স্বর্গের চেয়েও প্রিয় জন্মভূমি…।’ তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে ছয় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসেছেন, কিন্তু আজ তার মা বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। শফিক রেহমান বলেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জোর করে তাকে নিজের কাছে রেখেছিলেন যাতে তার (শফিক রেহমান) জেল জীবন সহনীয় হয়। তিনি তারেক রহমানকে সতর্ক করে বলেন, ‘উনি নিজেই জানেন না কতটা জনপ্রিয় তিনি। আমি জেলে থাকার সময় সাধারণ বন্দি ও পুলিশ সদস্যরা তার খোঁজ নিতেন। বিশেষ করে মেডিকাল ওয়ার্ড-৩, বেড-৩ তারেকের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পুলিশরা বলেছিলেন, ‘সরকার যাই বলুক, জেলে আমরাই রাজত্ব করি, এই বেডে কাউকে শুতে দেই না।’
খালেদা জিয়ার জেল জীবনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শফিক রেহমান। নেলসন ম্যান্ডেলার ২৭ বছর জেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেল জীবনে ম্যান্ডেলার জন্য ইট ভাঙার কষ্ট সবচেয়ে খারাপ ছিল, কিন্তু খালেদা জিয়ার জন্য স্বজনদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা আরো কঠিন ছিল। প্রথম দুই বছর কোনো চিকিৎসা পাননি। তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কোকো বা পরিবারের সদস্যরা জেলবন্দি হওয়ার ভয়ে খাদো জিয়াকে দেখতে আসতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘আমার বয়স কেন আমি বলি জানেন। বলতে পারেন যে হাসিনা রোগে আক্রান্ত হয়েছি আমি। এই কারণে বয়স আমোকে অনেক কিছু কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত, আমি সেটা বলবো না। এখানে অতীতের কথা কিছু টেনে আনা হয়েছে এবং সে কাজটি করেছেন আমি যার সহবন্দী হবার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেই মাহমুদুর রহমান। তিনি জেলখানায় জোর করে আমাকে তার রুমের পাশের রুমে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক। জেলে এবং এখন বাইরেও। তাকে ধন্যবাদ যে, তিনি আমার জেল জীবনটা অনেকটা সহনীয় করার চেষ্টা করেছিলেন। এখানে আরেকটা কথা বলতে চাই জেল জীবনটা কত খারাপ। এটা আপনারা যারা জেলে যাননি তারা বুঝবেন না। এখানে দুজন আছেন, তারা বুঝবেন। আমি ওনার (মাহমুদুর রহমান) রুমেই ছিলাম। কিন্তু উনি চলে যাওয়ার পর। আমি সেসব বর্ণনা দিয়ে আজকে আপনাদের এই সুন্দর পরিবেশটা বিষণ্ন করতে চাই না। আমি শুধু তারেক রহমানকে জানিয়ে রাখতে চাই, তিনি নিজেও জানেন না যে, তিনি কী। সক্রেটিস একটা কথা বলেছিলেন ‘নো দাই সেলফ’।
আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি বুঝতে পারি ছোটবেলায় আমি পড়েছিলাম ক্লাসে নো দাই সেলফ। এটা এত বড় মূল্যবান কথা যে এটা জানা দরকার। জানলে পরে অনেক কিছু করা সম্ভব জীবিত অবস্থাতেই। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জানতেন না যে, তিনি কত পপুলার। তার নামাজে জানাজাতে অবিস্মরণীয় লোক হয়েছিল। তারপর আমরা দেখলাম ম্যাডাম খালেদা জিয়ার জানাজা। তিনি যখন মহাপ্রয়াণ হলেন তখন সারা বাংলাদেশই হয়ে গেল জানাজার একটা ক্ষেত্র। এটাও একটা অভূতপূর্ব ঘটনা। এটা বুঝতে হবে। তারেক রহমান জানেন না, তিনি আসলেই কত জনপ্রিয়। আমি যখন জেলে গেলাম, তখন জেল বন্দিরা সবাই তার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করতো, সবচেয়ে বড় কথা পুলিশরাই জিজ্ঞাসা করত, যারা আমার রক্ষক তারাই জিজ্ঞাসা করত, জানেন উনি (তারেক রহমান) কেমন আছেন। উনি তো লন্ডনে বহু দূরে আছেন। আর আমি আপনাদের এখানে আছি।’
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০:০০ অপরাহ্ণ