ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে যাবেন সরকারি চাকরিজীবী সাদেকুর রহমান। প্রতিবারের মতো এবারও তিনি উদ্বিগ্ন খালি বাসার নিরাপত্তা নিয়ে। জানালেন, মিরপুর-১ নম্বরে তার বাসা। পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেবেন। তিনি যাবেন ঈদের দুদিন আগে। কিন্তু খালি বাসার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উৎকণ্ঠিত। গত ঈদুল আজহার ছুটিতে তাদের ভবনের একটি খালি ফ্ল্যাটে রান্নাঘরের গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া সাদেকুরের মতো উদ্বিগ্ন অনেকেই।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ মহল থেকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে অধিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার ঈদে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে নগরবাসীকে।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় উৎকণ্ঠিত সাধারণ মানুষ। মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী সুমাইয়া নাহার জানান, ছিনতাইয়ের ভয়ে সন্তানদের নিয়ে রাতে মার্কেটে যেতে ভয় পান তিনি। নির্জন রাস্তায় ছিনতাইয়ের ভয়, মার্কেটে পকেটমার, অজ্ঞান পার্টিসহ দুর্বৃত্তদের ভয় সবসময় তাড়া করে ফেরে।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ায় তালাবদ্ধ বাসাবাড়িতে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বাড়ে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সমন্বিত বৈঠকে ঈদকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা এবং ঈদে মানুষের ঘরে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে করণীয় নির্ধারণে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে অপরাধ প্রতিরোধে জনাকীর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার আসন্ন ঈদে পুলিশের সতর্ক থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে। ঈদে বেশিরভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবে। এ সময়ে কোনো অপরাধ, ছিনতাই, মলম পার্টি বা অন্যান্য অপতৎপরতা সংঘটিত হতে না পারে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালের আলো/এম/এএইচ

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ । ৭:০৮ অপরাহ্ণ