ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা।
দীর্ঘ ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জাহাজটি সৌদি আরবের দাম্মাম বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩৭ হাজার টন সার আছে।
বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার সূচি ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। সে অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করে। ১২ মার্চ জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৬৬ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছায়।
এ সময় প্রণালি এলাকায় মিসাইল হামলার খবর পান নাবিকেরা। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোস্টগার্ডও নিরাপত্তার কারণে প্রণালি অতিক্রম না করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর জাহাজটি জেবেল আলী বন্দরে ফিরে যায়।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘জাহাজটি তিন দিন আগে সৌদি আরবের রাস আল-খায়ের বন্দরে যায় এবং সেখান থেকে সার বোঝাই করে দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করে। যুদ্ধবিরতির পর ইরান আগামী দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-চলাচলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় জাহাজটি দাম্মাম ছেড়ে হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজটি প্রথমে কোনো নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাবে এবং পরিস্থিতি বুঝে বিএসসির পরবর্তী নির্দেশনা পেলে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে। জাহাজটির প্রাথমিক তিনটি সম্ভাব্য গন্তব্য হলো দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও ব্রাজিল। গন্তব্য চূড়ান্ত হলে জাহাজটি সেই অনুযায়ী অগ্রসর হবে।’
প্রসঙ্গত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের ২ মার্চ ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয় বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। ওই হামলায় জাহাজটির প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন। পরে জাহাজে আটকে পড়া ২৮ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর বাংলাদেশি জাহাজগুলোর জন্য যুদ্ধাবর্তনী অতিক্রম করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কালের আলো/এসআর/এএএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:২৯ অপরাহ্ণ