হামে মৃত্যু রোধে জরুরি উদ্যোগ সরকারের

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

হামে মৃত্যু রোধে জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে জন্য একদিকে অতিদ্রুত টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে, অন্যদিকে জটিল রোগীদের মৃত্যু রোধে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাবল সিস্যাপ পদ্ধতিও চালু করা হচ্ছে। গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এদের ৬ জন ঢাকায়, ৩ জন রাজশাহী এবং ১ জন খুলনায়। এ সময়ে হাম সন্দেহজনক রোগী ১ হাজার ২৪৮ জন। নিশ্চিত হাম রোগী ১৮৯ জন।

হাম সন্দেহজনক রোগী ঢাকায় বেশি হলেও মৃত্যু বেশি হয়েছে রাজশাহীতে। ঢাকায় হাম সন্দেহজন রোগী ৪ হাজার ৬৬৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের। রাজশাহীতে হাম সন্দেহজন রোগী ২ হাজার ২৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের।

হাম প্রতিরোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী ১২ এপ্রিল থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটিতে এই কার্যক্রম চালু হবে। পরে ৩ মে থেকে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করার কথা থাকলেও তা এগিয়ে আনা হচ্ছে। সংসদে প্রশ্ন উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতায় দেশে হামের প্রকোপ বেড়েছে। টিকা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা না হওয়া এবং যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জীবাণুবিদ (লিড ভাইরোলজিস্ট- এনপিএমএল ল্যাব) ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, সারা দেশে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরুর দুই সপ্তাহ পর হামের প্রাদুর্ভাব কমে আসতে শুরু হবে। যেসব শিশুর মৃত্যু হচ্ছে তাদের পুষ্টিহীনতায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সরকার সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে পুষ্টির ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করছে। জানা গেছে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, এ পর্যন্ত ২ কোটি ১৯ লাখ হামের টিকা পাওয়া গেছে। মজুদ আরও রয়েছে। দুর্নীতি ও বিলম্ব এড়াতে এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোয় টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। এক ভয়েলে ১০ ডোজ টিকা দেওয়া যায়। হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য সরকার সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। তিনি আরও জানান, ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্তপর্যায়ে রয়েছে। ইপিআই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা বজায় রেখে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও পরিবহন নিশ্চিত করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আমাদের আছে এবং কোল্ড চেইন রক্ষা করা হচ্ছে। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, রোগীকে ভয় দেখাতে হয় না, সাহস দিতে হয়। আমি তো জানতাম, আমি ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি। ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে তো আমি কথা বলছি না। তিনি বলেন, এই সংসদে যারা বসেছেন আপনারা কোনো না কোনো সন্তানের পিতা এবং বলা হয় সন্তানের পিতার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে আর ভারি কিছু হতে পারে না। এই যে, আমরা যে পরিসংখ্যানগুলো দিচ্ছি এই শিশু কোনো না কোনো পিতার কাঁধে কবরে গেছে। সুতরাং এটাকে কেবল পরিসংখ্যান হিসেবে না দেখে একটা মায়ের কান্না, একটা পিতার আর্তনাদ, একটা পরিবারের ধস এবং চিরজীবনের জন্য একটা পরিবারে যে শোক নেমে আসে সেটার দিকে আমরা একটু তাকাই।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন