চাঁদের কক্ষপথে ঐতিহাসিক অভিযান সম্পন্ন করে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। আজ শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় গতকাল রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাঁদের বহনকারী মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’ ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করে।
অবতরণের পর আর্টেমিস-২ মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, এটি ছিল এক অসাধারণ যাত্রা। আমরা সবাই স্থিতিশীল আছি এবং সম্পূর্ণ সুস্থ।
নভোচারীরা অবতরণের পর ‘ফ্রন্ট পোর্চ’ নামে পরিচিত একটি নৌযানে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাদের উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’-এর মেডিক্যাল বে-তে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন- রক্তচাপ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকারিতা, এবং হার্টবিট পরীক্ষা করান। এরপর, নভোচারীদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই অভিযানটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে অবস্থানকালে পৃথিবী থেকে ২,৫২,৭৫৭ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করেছেন। এটি পূর্বে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে, যেখানে পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ২,৪৮,৬৫৫ মাইল।
এছাড়াও, ভিক্টর গ্লোভার হয়েছেন প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী নভোচারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নভোচারী যিনি চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ করেছেন। তাদের এই ঐতিহাসিক অভিযান ছিল সবার জন্য একটি বিশেষ অর্জন। অভিযানে অংশ নেওয়ার সময়, নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের ঝলক সরাসরি দেখতে পান।
এটি ছিল আর্টেমিস-২ মিশন, যা ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানবজাতির পদচিহ্ন ফেলার নাসা পরিকল্পনার একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। এই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রত্যাবর্তনকে সরাসরি সম্প্রচারিত করা হয়েছিল নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স এবং অ্যাপল টিভি-তে।
কালের আলো/এসআর/এএএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ । ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ