এপস্টিন ইস্যুতে মেলানিয়া ট্রাম্পের বক্তব্যে চাপে হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ । ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প হঠাৎ করেই এপস্টিন বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এই বক্তব্য বিতর্ক থামানোর বদলে উল্টো নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর বরাতে এসব তথ্য জানা যায়।

হোয়াইট হাউসের এক আনুষ্ঠানিক স্থানে দাঁড়িয়ে দেওয়া প্রায় ছয় মিনিটের বক্তব্যে মেলানিয়া বলেন, তিনি এপস্টিনের কোনো ভুক্তভোগী নন। এপস্টিন তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি।

তিনি বলেন, ‘এপস্টিনের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে যে মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে, আজই তার শেষ হওয়া উচিত।’ মেলানিয়ার দাবি, তিনি কখনোই এপস্টিনের বন্ধু ছিলেন না। তবে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডার সামাজিক আড্ডায় মাঝে মধ্যে তার সঙ্গে দেখা হতো।

মেলানিয়া জানান, বহু বছর আগে এপস্টিনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার একটি সাধারণ ই-মেইল আদান–প্রদান হয়েছিল। সেই বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, সেটি ছিল একেবারেই তুচ্ছ একটি যোগাযোগ।

উল্লেখ্য, ধনী অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টিন একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠতে থাকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে দাবি করেছেন, ২০০০ সালের শুরুর দিকেই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তার অপরাধ সামনে আসার আগেই সেই সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা মেলানিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

তবে মেলানিয়ার এই বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এপস্টিনের কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যের মাধ্যমে আসল তদন্তের দায়িত্ব ফেডারেল সংস্থাগুলোর ওপর থেকে সরিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকার এখনো এপস্টিন মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে ডেমোক্রেট নেতারা বলছেন, নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাইলে মেলানিয়াকে কংগ্রেসের কমিটির সামনে এসে সাক্ষ্য দিতে হবে। যেমনটি চলতি বছরের শুরুতে সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনও এপস্টিন তদন্তে সাক্ষ্য দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মেলানিয়ার এই বক্তব্য তাকে রাজনৈতিকভাবে নতুন চাপে ফেলতে পারে। কারণ এতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে এপস্টিন বিতর্ক ও ইরান ইস্যু নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পও বর্তমানে বড় রাজনৈতিক সংকটে রয়েছেন।

কালের আলো/এসএকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন