সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বসলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজে ৪৬ মিনিটের বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে নিজের আবেগ-অনুভূতি, ভাবনা-চিন্তা, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীকে তিনি কোন পর্যায়ে দেখতে চান সেই বিষয়েও একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। উচ্চ মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন। দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী যে কারণে গঠিত হয়েছে, সকল কাজে আমরা সেই উদ্দেশ্যকে সাথে রাখতে চাই। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ইনশাআল্লাহ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, পেশাদার, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিকদের কথাও শোনেছেন। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। অচিন্তনীয় ও অভাবনীয় এক মুহুর্ত। সৃজনে-মননে নব আয়োজনের দীপ্তি ছড়িয়েছেন।
সশস্ত্র বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের প্রাপ্য সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিজের সরকারের সর্বদা দায়িত্বশীল থাকার অঙ্গীকার করেছেন। সংবিধান, শপথ, শৃঙ্খলা এবং কমান্ডের প্রতি অবিচল থাকতে উৎসাহিত করেছেন। শুধু বাংলাদেশকেই ভালোবাসতে বলেছেন। প্রতিটি সদস্যকে দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির কথা স্মরণ দিয়ে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি, আপনারা দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল বাংলাদেশকে ভালোবাসবেন। প্রয়োজনে নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও সর্বক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেবেন। আমাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।’ আধুনিক যুদ্ধ ক্ষেত্রকে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয় বরং কৌশল এবং দক্ষতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হয় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও মনে করিয়ে দিলেন সবাইকে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এও বলেছেন, ‘আমরা এমন এক সশস্ত্র বাহিনী চাই, যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে, আর দেশের জনগণ রাখবে আস্থায়। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ এসব নির্দেশনায় আরও দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নৈপুণ্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উজ্জীবিত করেছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।
- গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা
- সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়
- আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গঠন করতে বদ্ধপরিকর
- আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল এবং দক্ষতায় মোকাবিলা
- শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অবস্থায় সবার উপরে স্থান দিতে হবে বাংলাদেশের মর্যাদা
- তিন অবিভাজ্য ধারা সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের মেরুদন্ড
- প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে
তাঁরা বলছেন, সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে বর্তমানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ড সমুন্নত রয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত গুজব অপতথ্য ছড়ানো হলেও নেতৃত্বের প্রতি তাঁরা শ্রদ্ধাশীল, অটুট ও অবিচল থেকেছেন।

দূরদৃষ্টির পরিচয়বহ ও দিক নির্দেশনামূলক প্রায় ৪৬ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য করতে সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষ ও পেশাদার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সরকারপ্রধান। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল অনুপ্রেরণা সঞ্চারী। পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল-এই চিরন্তন সত্য উচ্চারণ করেছেন। সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই এ বাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গনের মিলনায়তনের দরবারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।
গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের সময় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাও চালানো হয়। ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা দেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময় এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচলাবস্থাতে সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে দেশের শিল্প অঞ্চল, নগর-বন্দর ও স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা ছিল দেশ, জাতি, জনগণ ও গণতান্ত্রিক বিধি বিধানের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’

সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব। এ সময় দেশের জন্য একটি ‘আধুনিক ও সময়োপযোগী’ সশস্ত্র বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ কারো আধিপত্য মেনে নেবে না, যে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারিত হবে পাস্পরিক সম্মান, স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম।’
আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গঠন করতে বদ্ধপরিকর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনে আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমে অনঢ় থাকে তাহলে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ থাকবে, আরও মর্যাদাশীল হবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গঠন করতে বদ্ধপরিকর।’ বাংলাদেশ এগোবে দেশপ্রেমের শক্তিতে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দরবার থেকে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, বাংলাদেশ এগোবে শৃঙ্খলা, সক্ষমতা, আত্ম মর্যাদা এবং দেশ প্রেমের শক্তিতে। আর সেই অগ্রযাত্রায় আমরা আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের গৌরবময় সশস্ত্র বাহিনীকে পাশে পেতে চাই।’
আধুনিক যুদ্ধ ক্ষেত্রকে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয় বরং কৌশল এবং দক্ষতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়
সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, ‘সংবিধান, শপথ, শৃঙ্খলা এবং কমান্ডের প্রতি আপনাদের অবিচল থাকতে হবে। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ক্রমাগত উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক যুদ্ধ ক্ষেত্রকে শুধু প্রযুক্তি দিয়ে নয় বরং কৌশল এবং দক্ষতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনে অন্তত সমন্বয় এবং কৌশলগত চিন্তাশক্তির সংমিশ্রণ থাকতে হবে অবশ্যই। জনগণের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক হবে আস্থা বিশ্বাস ও গভীর দায়িত্ববোধের। এর ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে এক অটুট বন্ধন। এই বন্ধনই আপনাদের শক্তি এবং প্রেরণা হিসেবে কাজ কর।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীকে শুধু শেষ ভরসার আশ্রয় হিসেবেই দেখেন না। বরং সাহস, দৃঢ়তা এবং নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও তারা আপনাদেরকে দেখে। আপনাদের প্রতি জনগণের এই অকৃত্রিম আস্থা এবং ভালোবাসাই যেন আপনাদের অন্যতম চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।’

শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অবস্থায় বাংলাদেশের মর্যাদাকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে
দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে নিজেকে সর্বতভাবে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে বলেন, ‘আমাদেরকে মনে রাখতে হবে দেশের সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধ করা আমাদের সবার নৈতিক এবং পেশাগত দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনকালে বিশেষত শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অবস্থায় বাংলাদেশের মর্যাদাকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে। কারণ আপনি সেখানে শুধুমাত্র একজন সৈনিক নন। বরং বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে।’
তিন অবিভাজ্য ধারা সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের মেরুদন্ড
সশস্ত্র বাহিনীকে একটি রাষ্ট্রের শক্তি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোন আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছেন তা যেন অক্ষুন্ন থাকে। ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, ২১ নভেম্বর যৌথ সামরিক পূর্ণতা এবং ৭ নভেম্বর দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পুনর্জাগরণ, এই তিন অবিভাজ্য ধারা আমাদের সামরিক বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের মেরুদন্ড।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রেখে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জল ইতিহাস আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত অঙ্গীকার।’ প্রধানমন্ত্রী দরবারে তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সামনে নতুন বাস্তবতা এসেছে বর্তমান সময় যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে, বদলেছে নিরাপত্তার ধরণ। আজ নিরাপত্তা মানে কেবল স্থল সীমান্তে সুরক্ষা নয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র, আকাশ সাইবার স্পেস, তথ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো, সামুদ্রিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক কৌশগত প্রতিযোগিতা।’

প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে
সশস্ত্র বাহিনীকে শুধুমাত্র আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজনে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং একই সাথে সবার গুরুত্বের সাথে পেশাগত দক্ষতা, কৌশলগত প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যাতে করে সশস্ত্র বাহিনীর যে কোন সমসাময়িক ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আমাদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনী নয়, নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারে দেশের প্রতিটি সেক্টরের সংস্কার এবং উন্নয়ন সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অর্থ সামাজিক এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই পর্যায়ক্রমে।’
কালের আলো/এমএএএমকে

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:৩৮ অপরাহ্ণ