বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:৫৩ অপরাহ্ণ

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এখন অনেকটাই আবহাওয়া নির্ভর হয়ে পড়েছে। শীত বা মৃদু আবহাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকলেও গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। অথচ দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো প্রয়োজন, যা জ্বালানির অভাবে সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গ্যাস সংকট, আমদানিকৃত কয়লার সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উচ্চ ব্যয়। এই তিনটি বড় কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করছে।

দেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। অন্যদিকে, কয়লা ও তেল আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এবং বকেয়া বিল বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না, সেই সক্ষমতা কাজে লাগানোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিও বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ইরান-কেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে- তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, সরবরাহ চেইন ব্যাহত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মৌসুমে লোডশেডিংয়ের প্রাথমিক লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা গেছে। গত ৪ এপ্রিল রাতে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়, যা মৌসুমের প্রথম বড় লোডশেডিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ খাত চাপের মুখে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। তার মতে- তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলে ২-৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি ও তীব্র গরম হলে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে। তাই শুধু উৎপাদন নয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন