হামে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:৪০ অপরাহ্ণ

হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ বছরের শিশু তানভীর হাসান। হাসপাতালে কথা হয় শিশুটির পিতা রাকিব আহমেদের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে খাওয়া-দাওয়া সব বন্ধ শিশুর। দুই দিন হলো কথা-বার্তাও কমে গেছে। কত চঞ্চল ছিল আমার বাবা। এখন বাবা বলেও ডাকে না, কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, এখন সারাক্ষণ কান্না করে। তার কান্নার সঙ্গে আমাদের মন ভারী হয়ে উঠছে। শুয়েও থাকে না। ঠিকমতো ঘুমও হয় না।

তানভীরের মতো অনেক শিশু হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হাসপাতালে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এতে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতিই হামের বিস্তারের প্রধান কারণ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া ঘনবসতি ও অপুষ্টির কারণেও ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ায় একটি বড় জনগোষ্ঠী ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং লক্ষণ নিয়ে এই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১২৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৭০ জন। যাদের মধ্যে ৮৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৫৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে। অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩৩৪। এদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের ঘাটতির কারণে ২০২৩ সালে ৫৭টি দেশে বড় বা গুরুতর হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এটি আগের বছরের ৩৬টি দেশের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমের আওতাধীন আফ্রিকান, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়, ইউরোপীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই প্রাদুর্ভাবের প্রায় অর্ধেকই দেখা গেছে আফ্রিকা অঞ্চলে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। ইপিআইয়ের হিসাবে হাম–রুবেলার টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ বা তার বেশি। ২০২৩ সালে ৮৬ শতাংশ শিশু টিকার প্রথম ডোজ ও ৮১ শতাংশ শিশু দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে। চার–পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া বা অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা হয়েছে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তার বেশি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, সারাদেশে পুরোদমে টিকা কার্যক্রম চলছে। আগামী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসছে। ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেক শিশু মারা যাচ্ছে এবং শিশুর অভিভাবকরাও এখন সচেতন হচ্ছে। শিশুর অভিভাবকরা নিজ উদ্যোগে খবর নিয়ে টিকা নিচ্ছে এবং সচেতনও করা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন