বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে অসংখ্য মানুষ মারা যান। বিশেষ করে বর্ষার আগমনী মৌসুমে—বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের তীব্রতা ও বিস্তার বাড়ছে। বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ গ্রামীণ কৃষক ও শ্রমজীবী, যারা মাঠে কাজ করতে গিয়ে বা খোলা জায়গায় অবস্থান করে প্রাণ হারান। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি সামান্য সচেতনতাই পারে এসব প্রাণঘাতী ঘটনা রোধ করতে।
সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্ট্রোর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএএফ) জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে এই পর্যন্ত ৩২ জন মারা গিয়েছেন। এর আগের বছরগুলো হিসাব করলে ২০১৯ সাল থেকে এই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৮১ জন মারা গেছেন। এর আগে ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে মারা গেছেন ৩৩০ জন। ২০২৪ সালে ২৯৭ জন, ২০২৩ সালে ২৪৫ জন, ২০২২ সালে ২৭৭, ২০২১ সালে ৩০৫, ২০২০ সালে ২৩০ এবং ২০১৯ সালে ২৬৫ জন মারা গেছেন। তাঁরা জানান, সাধারণত বছরের এই সময়ে অর্থাৎ মার্চ ও এপ্রিল মাসে বজ্রপাতে মারা যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। আমরা এই বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য এলাকায়-এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সচেতন করি। বজ্রপাত হলে কৃষকেরা কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখবেন সেই কৌশল জানাতে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করি। কৃষকদের উদ্দেশে দেওয়া পরামর্শ ও নির্দেশনাগুলোর মধ্যে আছে, ঝড়-বৃষ্টির সময় কোনোভাবেই খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভেজা ও গাছের নিচে থাকা যাবে না, ফসলের মাঠ, নদী-নালা, পুকুর, ডোবা, জলাশয়ে থাকলে দ্রুত আশপাশের কোনও দালান কিংবা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে, বৃষ্টির সময় ছেলে-মেয়েদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেদেরও বিরত থাকতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর) টাকা দিয়ে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও বজ্রনিরোধক যন্ত্র (লাইটেনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন করা হয়েছে। বলতে গেলে এ পদক্ষেপ কাজে আসেনি। এতে অনিয়ম-দুর্নীতি তো ছিলই। বজ্রপাত ঠেকাতে তালগাছ রোপণের কর্মসূচিও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বাতিল করা হয়। এছাড়া বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় কয়েক দফা প্রকল্প নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। টিআর নীতিমালা সংশোধন করে বজ্রপাত থেকে প্রাণহানি রোধে ১৫টি জেলায় ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড, বজ্রনিরোধক যন্ত্র (লাইটনিং অ্যারেস্টার)’ স্থাপনে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। টাকা খরচ দেখানো হলেও অনেক জায়গায় বসেনি কোনো বজ্র নিরোধক দণ্ড ও বজ্রনিরোধক যন্ত্র। এ নিয়ে বহু চিঠি চালাচালি ও তদন্তও করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জেলায় ৩৪৩টি বজ্রনিরোধক দণ্ড ও বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।
কালের আলো/এম/এএইচ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:১০ পূর্বাহ্ণ