চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে লোডশেডিং

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:০৯ অপরাহ্ণ

গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও জ্বালানি সংকটের কারণে সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা বলা হলেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর মতে, লোডশেডিং চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এ দুটি সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দুটি সংস্থা মিলে চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। একদিন আগে থেকে তারাও লোডশেডিং শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা এবং জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দামও বেড়েছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বাড়ছে। রয়েছে অর্থ সংকট। ফলে সামনের দিনগুলোয় জ্বালানির স্বল্পতায় বিদ্যুতের চাহিদা এবং উৎপাদনের মধ্যে ফারাক বৃদ্ধি পাবে। ফলে লোডশেডিংও বাড়বে। গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও লোডশেডিং বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও কয়লা আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে মে মাসের শুরুতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

গত পরশু দেশে সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছিল দিনে ১৫ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট এবং রাতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। পিজিসিবির সর্বশেষ ডেটা অনুসারে বিকেল ৪টায় চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট। আর গত শুক্রবার রাত ২টায় লোডশেডিং হয়েছিল দুই হাজার ৭৫৪ মেগাওয়াট। তবে এটা সরকারি হিসাব। বিতরণ কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুসারে লোডশেডিং প্রকৃতপক্ষে চার হাজার মেগাওয়াটের বেশি হচ্ছে। কারণ ৬ বিতরণ কোম্পানির মধ্যে শুধু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) লোডশেডিং গড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের ওপরে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে বলেছিলেন, বৈষম্য দূর করতে শহরেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে-কলমে অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গরমিল রয়েছে।

এবারের গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পিডিবি প্রক্ষেপণ করেছে। বর্তমানে গড়ে চাহিদা ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার মেগাওয়াট।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন