দীপংকর কুমার চৌধুরীর দুটি কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

কোথাও তোমার নাম নেই

এখন আর ভালো লাগে না—
জানালায় মুখ গুঁজে বৃষ্টি দেখতে,
বৃষ্টির সঙ্গে ওষ্ঠ ছোঁয়াতে।
এখন আর আগের মতো
চশমার তলায় বই পড়তে ভালো লাগে না,
বিকেলে চায়ের দোকানে আড্ডা জমে না।
পেখম মেলে নীল ঘন আকাশে
উড়ে যাওয়া ধবল বক—
তাকেও দেখতে ইচ্ছা করে না।
এখন বিক্ষিপ্ত মনে,
যখন সকালে পেপার হাতে নিয়ে
হেডলাইন পড়ি, দেখি—
কোথাও তোমার নাম নেই।
গুমরে গুমরে মেঘের শব্দ ভেসে আসে কানে,
বৃষ্টির রিমঝিম—কোথাও শুনি না তো
তোমার নামের উচ্চারণ।
তবে কি তুমি হারিয়ে ফেলেছো নাম?

****
কষ্টের ঝাঁপি ঠুকে ঠুকে দেখি

তোমার মুখাবয়ব বাঘিনীর কেশর,
তাকিয়ে থাকলে নিঃশব্দ—
ঠোঁটের কোণে একগুচ্ছ রক্তবর্ণ রমনার মান্দার পুষ্প।
স্পর্শ করলে জোনাক জ্বলা রাত।
কেশাগ্র স্পর্শে হয় না সাজ,
পাখির চঞ্চুই তোমার শিস, সমুদ্রের কোমল গায়ে।
তোমার পায়ের চিহ্ন—
সন্ধ্যার রমনী নক্ষত্রপুঞ্জে তোমার
সমস্ত চিঠি অদান-প্রদান।
তোমার উঠোনে পায়রার পালকের মতো চাঁদ,
তার গায়ে এলিয়ে দাও শাড়ির আঁচল।
সেই আঁচলে প্রেম উঠে আসে,
মণিমালা পুষ্পসাজে।
বসন্তে কখনো তোমার পুষ্পশূন্য পথ হয়নি,
চৈত্রের বাঘের সূর্যের মতো—পরিপূর্ণ অন্তিমসন্ধ্যা পর্যন্ত।
অতঃপর তোমার এবং তথাকথিত প্রকৃতির
জন্মগোত্র বাঁধা।
কিন্তু আমার উঠোনে মরা জোৎস্না,
জরাজীর্ণ চোখ, মুখ, নাক, কান।
সাপের খোলসের ভেতর ঢুকিয়ে রাখি শরীর।
রাত্রি আরও সময়ের কোলে ঢলে পড়লে
কষ্টের ঝাঁপি ঠুকে ঠুকে দেখি কত কষ্ট জমা হলো
কতটা ভালোবাসা নিবেদিত হলো—ব্রজধামে তোমার জন্য।

এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন