বাকস্বাধীনতা মানে মানুষকে সম্মান জানানো : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ৯:১১ অপরাহ্ণ

আমরা বাকস্বাধীনতা বলতে আসলে কী বুঝি, এমন প্রশ্ন রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেছেন, আমরা যে বাকস্বাধীনতার কথা বলছি, সেই বাকস্বাধীনতারও একটি নির্দিষ্ট সীমা ও অর্থ রয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গত দুই মাসে আমরা দেখেছি ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খতিব সাহেবদের সম্মানী প্রদান, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ নানা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে তিনি যেভাবে প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে সত্যিই নজিরবিহীন। একই সঙ্গে এটিও দুঃখজনক ও নজিরবিহীন যে একজন সংগ্রামী নেতা এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত, গণমানুষের ভালোবাসার প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও অবজ্ঞাসূচক বা আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা হচ্ছে। তাই প্রশ্ন আসে আমরা বাকস্বাধীনতা বলতে কী বুঝি?

সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির অডিটোরিয়ামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম ও জীবন নিয়ে ‘কমল কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা, শিল্প মন্ত্রণালয় (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অশোভন আচরণ করা কি বাকস্বাধীনতা এমন কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলতে থাকেন, ‘অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা কিংবা শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করা কি বাকস্বাধীনতা? প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, অপপ্রচার করা, কিংবা ভিন্ন নাম বা ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর উপস্থিতি তৈরি করা এগুলো কি বাকস্বাধীনতার অংশ? বাকস্বাধীনতা বলতে আমরা সেটাই বুঝি, যা ন্যায্য, ন্যায়সংগত, সত্য ও সঠিক। আমরা আমাদের বিরোধী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাই আপনারা নিজ নামে, নিজ পরিচয়ে রাজনীতি করুন।

ইতিবাচক রাজনীতি, গঠনমূলক সমালোচনা ও গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘অশ্রাব্য কিংবা অশালীন আচরণ কখনোই বাকস্বাধীনতা নয়। বাকস্বাধীনতা মানে মানুষকে সম্মান জানানো। স্বাধীনতা মানে দেশের জন্য কাজ করা, দেশের মানুষের জন্য সত্য, সঠিক ও বাস্তব কথা তুলে ধরা। আমরা বিশ্বাস করি, গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, তা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা তৈরি করবে। তবে সেই সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মধ্যেও সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব। তাই আমরা বলি সবার আগে বাংলাদেশ।

কালের আলো/জেএন/এমকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন