বাংলাদেশে বজ্রপাত বেশি হয় যেসব এলাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ । ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশে গত এক দশকে বজ্রপাত একটি নিয়মিত ও আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে গত এক দশকে বজ্রপাত একটি নিয়মিত ও আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট বিভাগে এই দুর্যোগের তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি।

বজ্রপাতের ‘হটস্পট’ কেন সিলেট ও সুনামগঞ্জ?

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হলো সুনামগঞ্জ জেলা, যার জামালগঞ্জ উপজেলাকে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা তিনটি বিষয়কে দায়ী করছেন-

হাওরের জলীয় বাষ্প: সিলেট অঞ্চলে থাকা বড় বড় হাওর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প তৈরি হয়।

পাহাড়ের বাধা: বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাস উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সাথে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরে উঠে যায়।

বজ্রমেঘের গঠন: এই দ্রুত উর্ধ্বগামী বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হওয়ার ফলে বিশাল আকৃতির ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রমেঘ তৈরি করে, যা বজ্রপাতের প্রধান উৎস।

এক দশকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান ও বর্তমান প্রবণতা

২০১৫ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার পর থেকে এর হিসাব রাখা শুরু হয়। দেখা গেছে, ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৩৯১ জন এবং ২০২০ সালে ৪২৭ জন মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছেন। তবে আশার কথা হলো, ২০২১ সালের পর থেকে এই মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৫ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৩ জনে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা এবং মানুষের সচেতনতা বাড়ার কারণেই এই হার কমছে।

বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত কালবৈশাখীর সময়েই বজ্রপাতের তীব্রতা ও প্রাণহানি বেশি হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছাড়াও নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, যশোর ও মাদারীপুরের মতো জেলাগুলোও বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক এবং জলাশয়ে থাকা জেলেরা এই দুর্যোগের প্রধান শিকার হন।

জীবন বাঁচাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরামর্শ

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য ও আবহাওয়া অধিদপ্তর কিছু জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে-

১. ঘরের ভেতর থাকুন: বজ্রপাতের সময় দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

২. খোলা জায়গা পরিহার: খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নিচে একদম থাকা যাবে না।

৩. নিচু হয়ে বসা: খোলা মাঠে থাকাবস্থায় বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসতে হবে।

৪. বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে: বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকা জরুরি।

কালের আলো /এসাআর /এএএন

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন