গ্যাস সংকটের কারণে দেড় দশক ধরে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার। ফলে রান্নার কাজে ভোক্তাদের বড় অংশই এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। আবার অনেকের গ্যাস সংযোগ থাকলেও ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন। মূলত বাসাবাড়িতে রান্নায়, কারখানা, বাণিজ্যিক ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে (অটো গ্যাস) ব্যবহার হচ্ছে এলপিজি। গত ৭ বছরে দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে এখন ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে।
আর এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ভোক্তারাও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। এলপিজি নিয়ে এমন চরম নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করেছে। কিন্তু তাতে দাম নিয়ন্ত্রণে তো আসেনি, উল্টো এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছে এলপিজি বিক্রেতাদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এক পর্যায়ে অভিযান সাময়িক বন্ধ করে পিছু হটে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এ এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কম দামের এলপিজির সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায় না। এই এলপিজির পরিমাণ বাড়ানো গেলে নৈরাজ্য কিছুটা হলেও কমবে। কিন্তু সরকারিভাবে এলপিজির উৎপাদন বাড়ানোর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। সংকটের সময় সরকারিভাবে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
বিইআরসি চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এ মাসে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা মূল্যবৃদ্ধি করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। আর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। একইভাবে অন্যান্য ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য বাড়িয়েছে বিইআরসি। কিন্তু নির্ধারিত দামে তা পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চাইলে এলপিজি আমদানি করে দেশে বোতলজাত করে বিক্রি করতে পারে। এটা খুব ব্যয়বহুল ও ঝামেলা না। তা ছাড়া দেশজুড়ে পেট্রোলপাম্পগুলোতে বিপিসির বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে যে তেল বিক্রি করে সেখানেই আলাদাভাবে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির সুযোগ রয়েছে। এতে ভোক্তা ন্যায্যমূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন না। একটুখানি সদিচ্ছা থাকলেই এটা সম্ভব।
কালের আলো/এম/এএইচ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:৪৬ অপরাহ্ণ