দুদকের নতুন কমিশন নিয়ে জল্পনা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:২৮ অপরাহ্ণ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যানসহ কমিশন গঠনে এখনও করা হয়নি সার্চ কমিটি। এ অবস্থায় কে হচ্ছেন দুদকের নতুন চেয়ারম্যান, এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। এর মধ্যে চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক সিনিয়র স্পেশাল জজ মোতাহার হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

বিদেশে অর্থপাচার-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন বিচারক মোতাহার হোসেন। সে সময় তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর ভাই প্রশাসন ক্যাডারের ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, সাবেক আয়কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) ও বর্তমানে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সাবেক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার আবুল হোসেনের নামও দুদক চেয়ারম্যান বা কমিশনের সদস্য হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় ৩ মার্চ মেয়াদের আগেই পদত্যাগ করেন চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন ও দুই কমিশনার। এর পর থেকে নেতৃত্বশূন্য স্বাধীন সংস্থাটি। এতে থমকে গেছে ভিভিআইপি ও ভিআইপির দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্তসহ কয়েক হাজার মামলার কার্যক্রম। এ অবস্থায় কবে কিভাবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার, এই অপেক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। কারা হচ্ছেন দুদকের নতুন অভিভাবক, এ নিয়ে চলছে আলোচনা।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রুটিন কাজেই তারা সীমাবদ্ধ থাকছেন। সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিচালক জানান, কর্মকর্তারা কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছেন। কিন্তু কমিশন না থাকায় নতুন মামলা করা, অভিযোগপত্র অনুমোদন, সম্পদ ক্রোক কিংবা বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, কমিশন না থাকার সুযোগ নিচ্ছে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা।

সাবেক ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে জন্ম নিয়েছিল ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ (দুদক)। সেই থেকে এ পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন এই সংস্থার হাল ধরেছে। তবে, দুই দশকের এই পথচলায় ‘স্বাধীন’ তকমা থাকলেও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় দেখা গেছে চরম অস্থিরতা। এখন পর্যন্ত দুদকের সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পেরেছে। বাকিগুলো রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে। বিচারপতি সুলতান হোসেন খান, সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী, মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও সর্বশেষ আবদুল মোমেন কমিশন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পদত্যাগ করে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন