বিনিয়োগ পরিস্থিতি আরও জটিল

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ । ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

বিগত সময়ে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। বিশেষ করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ডলার সংকট এবং জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্পে যেতে অনীহা দেখিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আশা করছে, রাজনৈতিক সংকট না থাকায় এখন উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ ছিল জিডিপির প্রায় ৩০.২ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (প্রাক্কলন) এটি সামান্য বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩০.৮ থেকে ৩১ শতাংশে। এ হিসাব থেকে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে দেশে বিনিয়োগে বড় ধরনের কোনো জাম্প হয়নি। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির ছিল। উদ্যোক্তারা নতুন শিল্প স্থাপনের বদলে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানোর যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজন কার্যকর নীতি, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকার এসব বিষয়ে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী বাজেটে সরকার বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিচ্ছে।

এগুলো হচ্ছে-অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ ও দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) জোরদার করা এবং ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে স্টার্টআপ সহায়তা ও বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে কর্মসংস্থানও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বিনিয়োগের হার ৩২-৩৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সেই হিসাবে বর্তমান লক্ষ্য এখনো সীমিত।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানি খাত এখন বহুমুখী চাপে আছে। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারেও চাহিদা কমছে। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ, ব্যাংক সুদহার কমানো এবং রপ্তানিতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি না করলে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন