সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ । ৭:০০ অপরাহ্ণ

সিলেট-ঢাকা রেলপথে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট রয়েছে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তবে এই সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, রেলসহ সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। চলমান পরিকল্পনাগুলো সেই গুরুত্বের ভিত্তিতেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিলেট আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সিলেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি এই অঞ্চলে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অনুমোদন দিয়েছেন। রেল উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও সিলেটকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট রুটে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি বর্তমানে সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট রুটে রেল যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আসবে, আশাবাদি তিনি।

তিনি বলেন, সিলেট রুটে মিটারগেজ রেলসেবায় লোকোমোটিভ সংকট ও একক লাইনের কারণে প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। অবশ্য সীমিত সম্পদের মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কোথাও ইঞ্জিন বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে যায়। কারণ অনেক জায়গায় এখনো সিঙ্গেল লাইন। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিটারগেজ অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ নেই। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ সিরিজের ইঞ্জিনের পরিবর্তে ২৯ সিরিজের পুরোনো লোকোমোটিভ দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কোথাও ৩০ থেকে ৩৫টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও সচল আছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি। বাকিগুলো মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সমস্যা নিয়ে বসে থাকতে চাই না, দ্রুত সমাধান করতে চাই। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যাতে দায়িত্বে কোনো ঘাটতি না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

রেল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকায় বসে কেবল নির্দেশনা দিলে হবে না, সরাসরি সেবা পরিস্থিতি দেখতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত কোচ ও লোকোমোটিভ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন লোকোমোটিভ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও সেবা বাড়ানো সম্ভব হবে।

রেলের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দখল উচ্ছেদে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রেলকে লাভবান করতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের দিকেও সরকার নজর দিচ্ছে। তবে রেলের সেবা নিশ্চিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে। কোনো ধরণের দায়িত্বে অবহেলা মেনে নেওয়া যাবে না।

এরআগে সকালে রেলযোগে সিলেট পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং শাহপরান( রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।

পরে দিনব্যাপী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিসি, বিআরটিএ, রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি শেষে রাতে রেলযোগে ঢাকা ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ মে দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের রেল-সড়ক, কৃষি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন