প্রায় সাত বছর আগে রাজবাড়ীতে এক পল্লী চিকিৎসককে খুনের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- বাবলু সরদার, টোকন সরদার ও গাজীয়া সরদার।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাজবাড়ীর দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার, রায়হান সরদার, হবিবর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খা, জিল্লু বেপারী ওরফে কাজী ও জিয়া মণ্ডল।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাবলু সরদার যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আতর আলীর ছেলে। দণ্ডিত প্রত্যেককে রায়ে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার ২২ আসামির মধ্যে বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দিয়েছেন। তারা হলেন- কামরুল শেখ, কবির শেখ, সামাদ শেখ, আফতার শেখ, আমজাদ শেখ, জহুরুল মণ্ডল, মিন্টু মোল্যা, জাকিরুল শেখ, সবুজ মণ্ডল, সাইদুল মোল্যা ও ছাত্তার খা।
এ ছাড়া মতিয়ার ও আলাল সর্দার (মাঝি) নামে দুই আসামি মামলার বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
জানা যায়, গোয়ালন্দ থানার দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আতর আলীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম মণ্ডল। তবে নির্বাচনে আতর আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন হাফিজুল ইসলাম।
২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন ছিল। নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থী সেখানে উপস্থিত হন।
আতর আলীর লোকজন সম্মেলনে হট্টগোল, চিৎকার শুরু করলে নেতারা তাদের শান্ত করেন। এক পর্যায়ে বাবলু সরদার সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। পরে আতর আলী তার লোকজন নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন।
হাফিজুল ইসলামের কর্মী নিজাম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। ওই খবর শুনে আবু ডাক্তার সেখানে যান। তখন তারা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।
আবুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আসামিরা পালিয়ে যান। আবুকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আবু ডাক্তারকে হত্যার ঘটনায় ২০১৯ সালে মোল্লা গোয়ালন্দঘাট থানায় ৩৭ জনের নামে এ মামলা করেন তার বাবা মোবারক। মামলার তদন্ত শেষে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
এরপর দ্রুত বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার নয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন আদালত।
কালের আলো/এসআর/এএএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬ । ৫:৩০ অপরাহ্ণ