ব্যাংকে নীরবে বাড়ছে দাবিহীন আমানত

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ । ২:১৩ অপরাহ্ণ

স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলে ৩৩টি ব্যাংকের অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ ৪৯ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া মার্কিন ডলারে প্রায় ৪ কোটি ৪৮ হাজার ১৭০ টাকা (৩২৬২৫৮ ডলার), পাউন্ডে ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৮ টাকা (৪৬৪৮৬ পাউন্ড) এবং ইউরোতে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪০ টাকা (৫২৭৫ ইউরো)।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দাবিহীন আমানতের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কয়েকটি বড় বেসরকারি ব্যাংক। এর মধ্যে বিদেশি খাতের সিটি ব্যাংক এনএ-এর সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া এইচএসবিবিসির প্রায় ৬ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং সিটি ব্যাংকের প্রায় ৩ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। এসব আমানতের বড় অংশই দীর্ঘদিন অচল থাকা সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর ও বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিমে জমা টাকার হিসাব।

ব্যাংকাররা বলছেন, গ্রাহকের মৃত্যু, বিদেশে স্থায়ী হওয়া, ঠিকানা পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকা কিংবা উত্তরাধিকারীদের তথ্য না থাকায় এসব হিসাব বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে। অনেক সময় পরিবারও জানে না যে, তাদের স্বজনের নামে ব্যাংকে আমানত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের কোনো হিসাবে জমা থাকা আমানতের বিষয়ে ১০ বছর ধরে কোনো দাবিদার পাওয়া না গেলে ওই হিসাবকে অদাবিকৃত আমানত হিসাব (আনক্লেইমড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট) বলে গণ্য করা হয় এবং এসব হিসাবের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করার নির্দেশনা রয়েছে।

জানা যায়, এসব আমানত সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দিতে প্রায় এক বছর হিসাবধারীর নাম, হিসাব নম্বর ও টাকার পরিমাণসহ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এ সময় কোনো দাবিদার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারলে তার অর্থ ফেরত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সরিয়ে ফেলার পর আরও এক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ ফেরত দিতে রাজি থাকে। প্রতি বছর এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অদাবিকৃত আমানত জমা নেয়। সব মিলিয়ে অন্তত ১২ বছর তিন মাস সময় দেওয়া হয় অদাবিকৃত আমানত গ্রাহককে ফেরত নেওয়ার জন্য। এরপরও যেসব আমানতের দাবিদার পাওয়া না যায়, সেসব আমানতের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন