এক মাস ৭ দিন বয়সী নবজাতক শিশুকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মদন উপজেলার ৬০ বছর বয়সী মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘঠনাটি ঘটেছে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার তেতুলিয়া কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে ২০২৬, রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন গিয়ালী খালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী (২৪) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রগা ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রায় এক বছর আগে মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের রিপন মিয়ার (৩০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের এক মাস ৭ দিন বয়সী একটি নবজাতক শিশু রয়েছে।
গত ১৫ মে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বামী রিপন মিয়া এই নারীকে একতরফা ডিভোর্স দেন। ১৭ মে বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে এই নারী নবজাতক শিশুকে নিয়ে নায়েকপুর থেকে বাবার বাড়ি
সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। কৈজানী নদী পার হয়ে তেতুলিয়া ঘাটে পৌঁছে তিনি ঘাট সংলগ্ন মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়ার (৬০) দোকানে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আব্দুর রউফ মিয়া আনোয়ারাকে রাতে তার বাড়িতে থেকে সকালে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরামর্শ অনুযায়ী শিশু ও ব্যাগ নিয়ে তার সঙ্গে রওনা হলে পথে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আব্দুর রউফ শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ। প্রস্থাবে রাজি না হওয়ায় রউফ নারীর কোল থেকে ১ মাস ৭ দিনের শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে দেন এবং দেশীয় অস্ত্র রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।
এ সময় কাছেই বরশি দিয়ে মাছ ধরতে আসা এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে নারী দৌড়ে পালিয়ে যান। নারী ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে গিয়ে চিৎকার করে স্থানীয়দের ঘটনা জানান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনার প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর পাটক্ষেত থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে বাজারে নিয়ে আসা হয়। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তিনি ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান।এরপর কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আজ সোমবার সকালে অভিযুক্ত আব্দুর রউফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেন্দুয়া থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রউফকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। নবজাতক ও ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কালের আলো/এসআইপি

নেএকোনা(কেন্দুয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ । ৪:৪০ অপরাহ্ণ