এইডস বাড়ছে দেশে

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ । ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

দেশে উদ্বেগজনক হারে এইডস বাড়ছে। তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, নতুন শনাক্তদের ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী।

শুধু তাই নয়, দেশের ৪১টি জেলায় এখনো এইচআইভি/এইডস পরীক্ষার সুযোগ নেই। ফলে বহু মানুষ রোগ শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বিমানবন্দরেও নেই পরীক্ষা ব্যবস্থা। অনেকেই বিদেশ থেকে আক্রান্ত হয়ে এলেও নেই শক্ত নজরদারি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) হলো এমন একটি ভাইরাস যা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। এই সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ে অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (এইডস) দেখা দেয়। এইচআইভি সংক্রমণের কোনো নিরাময় নেই। বর্তমানে এর চিকিৎসা করা হয় অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপির (এআরটি) মাধ্যমে, যা শরীরে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে এবং একজন ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। বিশ্বে বিভিন্ন দেশে এইচআইভি/এইডসের টিকা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণা চলছে। তবে কার্যকর টিকা আবিষ্কার হয়নি।

এইডস/এসটিডি কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশে পুরুষ সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণের হার ২০১৭ সালে ছিল ০.৭ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩.১ শতাংশে। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই হার আরও বেড়ে প্রায় ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের (এএইচএফ) কান্ট্রি ডিরেক্টর আকতার জাহান শিল্পী জানান, আক্রান্তদের ৩৪ শতাংশ পুরুষ সমকামী ও ১৪ শতাংশ পুরুষ যৌনকর্মী। এছাড়া প্রবাসী ১২ শতাংশ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ১১ শতাংশ, শিরায় মাদকগ্রহণকারী ৬  শতাংশ,  নারী যৌনকর্মী ও হিজড়া ১ শতাংশ করে। এছাড়া ২২ শতাংশ অন্যান্য মানুষ।

দেশে প্রথম ১৯৮৯ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম মৃত্যু হয় ২০০০ সালে। এখন পর্যন্ত অনুমিত এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি ১৭ হাজার ৪৮০। এরমধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩ জন। সংক্রমণের হার .০১ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৫ চিকিৎসার আওতায় এসেছেন অর্থাৎ শনাক্তের ৭৪ শতাংশ।

মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতা তরুণদের আচরণে পরিবর্তন আনছে, অথচ সেই তুলনায় সঠিক সচেতনতা বাড়ছে না।

ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন এবং অন্যের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমিয়ে আনতে পারেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকট রুখতে কেবল চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার বিস্তার, ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রমের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন জরুরি বলে তারা মনে করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন