আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বিভাগজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা।
দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সফরসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯টায় সড়কপথে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর ১২টায় ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর দুপুর ২টায় ত্রিশাল নজরুল ডাক বাংলোতে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। একই সঙ্গে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি আবারও সামনে এসেছে। নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, বিভাগ ঘোষণার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ময়মনসিংহ এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।
সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ময়মনসিংহে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি। বিভাগীয় শহর হওয়া সত্ত্বেও বিমানবন্দর না থাকায় যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে পিছিয়ে রয়েছে এ অঞ্চল। এছাড়া শহরের ভেতরে থাকা রেললাইন বাইরে স্থানান্তর, ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন বিশিষ্ট রেললাইন চালু এবং বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে যমুনা নদীর সঙ্গে রেলসংযোগ স্থাপনের দাবিও জোরালোভাবে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
বাংলাদেশের অন্যতম কৃষি সমৃদ্ধ জেলা ময়মনসিংহে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। জেলার প্রায় ১ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি এখন কৃষিপণ্য সংরক্ষণের টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা না হলে কৃষিতে অপচয় ও লোকসান আরও বাড়বে।
ময়মনসিংহ থেকে সিলেট পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালু, সীমান্ত সড়ক প্রশস্তকরণ এবং বিভাগীয় শহরে চারটি ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবিও জানানো হয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, যানজট ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
শিক্ষাখাতের উন্নয়নে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।
স্বাস্থ্যখাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজকে সমন্বয় করে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর সেবার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের লাখো মানুষ এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, সাংবাদিকদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিভাগীয় অবকাঠামো দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আরোও জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি।
ময়মনসিংহবাসী প্রত্যাশা করছেন দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবেন।
কালের আলো/এমএসআইপি/এমএসএকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬ । ৯:৪৬ অপরাহ্ণ