বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিদেশি সিইও বসানোর চিন্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ । ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যান। বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় অনেক। দেশের অর্থই সেখানে ব্যয় করা হয়। এ প্রবণতা কমাতে এবং দেশের ভেতরেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাসপাতালটিতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, রোবোটিক সার্জারি সুবিধা, উন্নত আইসিইউ, উচ্চ প্রযুক্তির ডায়াগনস্টিক সিস্টেম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ স্থাপন করা হয়েছে।

কিন্তু অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চিকিৎসাসেবা চালু করতে পারেনি। তাই বর্তমান বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসন হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম বাড়াতে প্রশাসনিক সংস্কারের নতুন পরিকল্পনা করেছে, যার আওতায় একজন বিদেশি সিইও বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনবল ব্যবস্থাপনা। অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সেসবের পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট, নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। প্রশাসনিক কাজের চাপও বেড়েছে। ফলে পেশাদার ব্যবস্থাপনার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল।

চুক্তিভিত্তিক সিইওর সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে যেমন প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল নিয়োগ ও পুনর্বিন্যাস করা; সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সব বিভাগকে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা; রোগীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রোগীর ভোগান্তি কমানো এবং সেবার গুণগত মান বাড়ানো; প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং এ প্রতিষ্ঠানকে কার্যকরীভাবে পরিচালনা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চুক্তিভিত্তিক সিইও নিয়োগ এবং এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারই নতুন উদ্যোগ। এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে কমিটির সুপারিশ, নিয়োগ-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং হাসপাতালের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন-পরিকল্পনার ওপর।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একনেকে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার হাসপাতালটিতে বাংলাদেশ সরকার, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন রয়েছে। প্রকল্প-পরিচালক অধ্যাপক ডা. জুলফিকার রহমান খান নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হাসপাতালটি বুঝিয়ে দেন। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালের উদ্বোধন করেন এবং ২৭ ডিসেম্বর হাসপাতালে আউটডোর চিকিৎসাসেবা শুরু হয়।

বিএমইউ সুপার স্পোশালাইজড হাসপাতালের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকরী করতে এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে একজন চুক্তিভিত্তিক সিইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই গত ১১ মে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। গত ১৬ মে কমিটির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সুপার স্পোশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে নিযুক্তদের কী করণীয় সেসব বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।

ওই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে। কমিটির সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আক্তার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুনশী কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন