পদত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা পর নীরবতা ভাঙলেন দীপেন দেওয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ । ২:০২ পূর্বাহ্ণ

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত সোমবার (১ জুন) দুপুরে হঠাৎ করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগের পরে সম্পূর্ণ নিবর ছিলেন এবং পদত্যাগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি সাবেক এই মন্ত্রী।

তার আকস্মিক পদত্যাগের খবরে পার্বত্যাঞ্চলে নানা ধরনের আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার নিরবতা ভেঙে বুধবার (৩ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন দীপেন দেওয়ান।

‎ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‎প্রিয় পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ, আসসালামালাইকুম, ঝু ঝু, নমস্কার, কুলুংকা, রিকোবায়া। ‎সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।

‎আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সব পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।

আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক-এটাই আমার প্রত্যাশা।

‎আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি যে, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা।

আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।

‎আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখব। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করব না।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মত-পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়।

‎আমার একান্ত কামনা, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক।

‎পরিশেষে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নেতৃত্বের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারও দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করছি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।

‎সকলের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইল। ‎সবার আগে বাংলাদেশ, ‎বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন