তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ।
সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি আট সদস্যের আরেকটি বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী দেড় মাসের মধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়নে সময় লাগলেও সরকার দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব শিগগিরই তিস্তা পাড়ের মানুষ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।
তিনি জানান, মহাপরিকল্পনার আওতায় ব্যারেজ নির্মাণ এবং নদীতে পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরেই এসব বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। পাশাপাশি মন্ত্রীসহ একটি প্রতিনিধিদল তিস্তা এলাকা পরিদর্শন করবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও জানান, কারিগরি কমিটিতে বুয়েটের নদী বিশেষজ্ঞ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি দিক পর্যালোচনা করছেন।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ । ৬:২৩ অপরাহ্ণ