খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ । ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

খেলাপি ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং ব্যাংকিং খাত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশনসংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনঃতফসিল এখন আর সমস্যার সমাধান নয় বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ ‘লুকানোর কৌশলে’ পরিণত হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত চিত্র সময়ের সঙ্গে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই স্বল্প সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এই প্রবণতা নির্দেশ করে ঋণ আদায়ের চেয়ে নতুন করে ঋণ শ্রেণিকরণ সমস্যাই দ্রুত বাড়ছে।

একই সময়ে দেশের মোট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত বা সমস্যাগ্রস্ত ঋণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের প্রতি তিন টাকার মধ্যে প্রায় এক টাকাই এখন ঝুঁঁকিপূর্ণ বা খেলাপি অবস্থায় রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ছিল ২৪.১৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চে বেড়ে ৩২.২৬ শতাংশে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৩ শতাংশ পয়েন্ট, যা ব্যাংকিং খাতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দ্রুত বৃদ্ধি কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবণতা নয় বরং এটি নীতিগত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার ফল।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন