আমাদেরকে সব সময় বেশি করে পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি হজমে সাহায্য করে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখে এবং শরীরের জন্য ভালো কাজ করে। তবে অনেকে প্রচুর পানি পান করার পর পাতলা পায়খানার মতো সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন এবং ভাবতে শুরু করেন যে এর জন্য তাদের পানি পানের অভ্যাসই দায়ী। এমন প্রশ্ন মনে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে সত্যিটা কী?
পানি কি আসলেই ডায়রিয়ার কারণ?
বেশিরভাগ মানুষের জন্য এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো- না। শুধুমাত্র পানি পান করলে সাধারণত ডায়রিয়া হয় না। পরিপাকতন্ত্র দক্ষতার সঙ্গে তরল শোষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করার জন্য তৈরি, অপরদিকে সুস্থ কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে। শরীর স্বাভাবিক পরিমাণে পানি সামলানোর জন্য যথেষ্ট সক্ষম। বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সারাদিন হাইড্রেটেড থাকলে হজমের কোনো সমস্যাই হয় না।
খুব বেশি ও খুব দ্রুত পানি পান করলে কী হয়?
এখানেই বিষয়টি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যে খুব বেশি পরিমাণে পানি পান করা একটি ভিন্ন ব্যাপার। শরীর একবারে অতিরিক্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ করলে তা অন্ত্রের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাদ্য ও তরলের চলাচল দ্রুত হতে পারে, যার ফলে মাঝে মাঝে মল নরম হতে পারে। তবে এটি সাধারণত মৃদু এবং বিরল। খুব দ্রুত অস্বাভাবিক পরিমাণে পানি পান না করলে বেশিরভাগ মানুষের এই সমস্যা হয় না।
শরীরকে আর্দ্র রাখার সঠিক উপায়
বিশেষজ্ঞরা একবারে বেশি পরিমাণে না পান করে ধীরে ধীরে পানি পান করার পরামর্শ দেন। সারাদিন ধরে নিয়মিত পানি পান করলে শরীর সঠিকভাবে পানি শোষণ করতে পারে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।
খুব বিরল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে পানি পান করলে ওয়াটার ইনটক্সিকেশন হতে পারে, যেখানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। কিন্তু এটি অস্বাভাবিক এবং সাধারণত কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই ঘটে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি পানি পান করা সাধারণত ডায়রিয়ার সরাসরি কারণ নয়। ভারসাম্যই মূল বিষয়। আপনি যে পানি পান করছেন তার পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ের প্রতি মনোযোগ দিলে তা স্বাস্থ্যকর হজম এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
কালের আলো/এম/এএইচ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ । ৩:৪২ অপরাহ্ণ