ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অন্যান্য ব্যাংক প্রধানদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ । ৬:১৬ অপরাহ্ণ

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি আমানতকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। তাদের মতে, দেশের বৃহত্তম ব্যাংকটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতেই পড়তে পারে।

বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এতে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি ও সিইওরা অংশ নেন।

সভা শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকাররা উদ্বিগ্ন।

মাসরুর আরেফিন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিকে এখন কেবল ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না; এটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকটিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বিষয়টির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিকীকরণও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনা আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

সভায় ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)-তে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। এবিবি চেয়ারম্যান জানান, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এ অর্থ বিতরণ করা হবে।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, রফতানি ও আমদানি সংক্রান্ত তথ্যে ভুল ও বিলম্বিত তথ্য প্রদানের কারণে জাতীয় হিসাব-নিকাশে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে গভর্নর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের মূল্য ঘোষণায় বড় ধরনের তারতম্য দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন উৎস ব্যবহার করে পণ্যের দাম যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে অতিমূল্যায়িত আমদানি কমিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন