ক্রিকেটের দুনিয়ায় অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। সেই অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়েই আজ ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ঘরের মাঠে অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে সহজ জয়ে লিড নিরেছিল টাইগাররা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের দল। হলুদ জার্সিধারীদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয় এটিই।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় এলো বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করেই। আগে ব্যাট করতে নেমে অল আউটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল অজিরা। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করতেই নামে বৃষ্টি। এরপর লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫.১৫ মিনিটে যখন ম্যাচ আবার মাঠে গড়ায় ততক্ষণে শুরু হয়েছে ওভার কর্তন। ফলে অজিরা আর ব্যাট করতে নামতে পারেনি। ৪১ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ, বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২। সে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও সৌম্য সরকার ও নাজমুল শান্তর ৪২ রানের ইনিংসের পর তাওহিদ হৃদয়-মেহেদি মিরাজ জুটিতে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরের পথ ধরতে হয় তানজিদ তামিমকে। বাংলাদেশি এই ওপেনার ২ বলে ০ রান করে ফিরেন জাভিয়ের বার্টলেটের বলে। শুরুতেই এক ওপেনারকে হারিয়ে তাই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে বৃষ্টি ভেজা মাঠে এরপর আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামলে নেন নাজমুল শান্ত। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলে অজি বোলারদের বিপক্ষে জুটি গড়েন।
শান্ত-সৌম্যর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে স্কোরবোর্ডে ওঠে ৮৬ রান। সৌম্য ছিলেন ব্যক্তিগত অর্ধশতকের পথে। তবে ফিফটি থেকে ৮ রান দূরে থাকতেই ফিরতে হয় তাকে। ৪৭ বলে ৪২ রান করে ম্যাট রেনশর বলে আউট হন তিনি। দলীয় ৮৬ রানে সৌম্য ফেরার পর ক্রিজে শান্তর সঙ্গী হন লিটন দাস।
তবে লিটনের সঙ্গে বড় জুটি গড়া হয়নি শান্তর। এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে ১২ রান ওঠতেই ব্যক্তিগত ৪২ রান করে আউট হন শান্ত। এরপর ক্রিজে হৃদয় লিটনের সঙ্গী হলেও জুটি বড় হয়নি। ব্যক্তিগত ২১ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। দলীয় ১২২ রানে লিটন ফেরার পর ১৪৪ রানে আউট হন আগের ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক।
দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও ষষ্ঠ উইকেটে হৃদ্যয়-মিরাজের জুটিতে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। অজি বোলারদের বিপক্ষে এরপর আর কোনো ভুল করেননি মিরাজ-হৃদয়। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলেন ৫১ রানের অপরাজিত জুটি। এই জুটিতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করে টাইগাররা। মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে, হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ৪০ রানে।
এর আগে মিরপুরে টস জিতে আজ ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস। সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতেও ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারের পর আজ সিদ্ধান্ত বদলালেন। তবে ভাগ্য তার সহায় হলো না। সফরকারীদের শুরুটা হয়ে গেল রূপকথার বিপরীত গল্পের মতো।
মাত্র তিন ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া হয়ে গেল ০ রানে ৩ উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এ যেন এক অবিশ্বাস্য দুঃস্বপ্ন। অজিদের ৮৮২টি ওয়ানডে ম্যাচের দীর্ঘ পথচলায় মাত্র দু’বারই দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। বাংলাদেশের মাটিতে এসে সেই বিরল লজ্জার তৃতীয়বার ঘটল।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার এক হাজারেরও বেশি ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম। আগে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়ও তারা তিন উইকেট হারিয়েছিল ৫ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ০ রানে ৩ উইকেট হারানোর লজ্জা পেয়েছে তারা। এরপর কিছুটা সামলে নিলেও বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধের আগে তারা ৪২ ওভারে করতে পারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ । ৯:৪০ অপরাহ্ণ