সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ । ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক রয়েছে এবং এর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং পরবর্তীতে মূলধন শক্তিশালী করাই বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তার ভাষায়, অতীতে আর্থিক খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রথম ধাপে খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং এরপর ধীরে ধীরে পুনঃমূলধনীকরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন গুজব প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এসব তথ্য ভিত্তিহীন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম কোথাও বন্ধ হয়নি এবং কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপও করা হয়নি। বরং নিয়ম মেনেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বোর্ড পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিভিন্ন ধাপ পার হয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বোর্ড কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

গভর্নর জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকিং সিস্টেমের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এ বিষয়ে কাজ চলছে। দ্রুততম সময়ে প্রযুক্তিগত সংহতকরণ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনে জরুরি সহায়তাও দেওয়া হবে, সাধারণ আমানতকারীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি যাতে না হয়।

আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর বলেন, কেউ তাদের অর্থ উত্তোলনে কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না। পাশাপাশি ব্যাংকের ডিপোজিট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগ্রস্ত কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফআই-এর আটকে থাকা আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শিগগিরই শুরু করা হবে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন